খুলনার উপকূলীয় দাকোপ উপজেলায় বটবুনিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ মিটার বেড়িবাঁধ ভেঙে ঢাকি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। রোববার সকাল ৭টার দিকে নদীতে জোয়ারের প্রবল পানির চাপে এ ভাঙন দেখা দেয়। এতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি ১৩টি পরিবার ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
ভাঙনের পর ভাটার সময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে জিও ব্যাগের টিউবে বালু ভরে কোনোমতে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়। তবে ভাঙনকবলিত স্থানটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো জানায়, রাতে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দেয়। সকালে মুহূর্তের মধ্যে বাঁধের বড় একটি অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। এতে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। কয়েকটি পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে গেছে। অন্যরা নিজেদের মালামাল রক্ষায় ঘরবাড়ি ভেঙে পাশের বেড়িবাঁধের ওপর সরিয়ে নিচ্ছেন। বর্তমানে অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত যদুবর সরদার, নিরাঞ্জন সরদার, কৃষ্ণপদ সরদার, প্রশান্ত সরদার, প্রদীপ সরদার, অজিত সরদার, লকেশ সরদার, গোপাল সরদার, গোবিন্দ সরদার, শেখর সরদার, পরিতোষ সরদার, সূর্যকান্ত সরদার ও নিলু সরদার জানান, হঠাৎ বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় তাঁরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। ঘরবাড়ি ও মালামাল রক্ষায় তাঁরা আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে তিলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে জিও ব্যাগের টিউবে বালু ভরে কোনোমতে জোয়ারের পানি প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। তবে স্থানটি এখনো মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। যেকোনো মুহূর্তে আবারও ভাঙন দেখা দিতে পারে। বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মধুসূদন পাল বলেন, ভাঙনকবলিত স্থানে ব্লক ডাম্পিং এবং জিও ব্যাগের টিউবে বালু ভরে বাঁধ আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্থানটি এখনো ঝুঁকিপূর্ণ।
ইএন/এসএ
