কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুত তাজমীনের হত্যাকাণ্ডের পর রাতে সড়ক-মহাসড়কে চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডসহ গুরুত্বপূর্ণ যাতায়াতকেন্দ্র ও নির্জন সড়কে রাতে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
রাত নামলেই কুমিল্লার সড়ক-মহাসড়কে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক কিংবা যাত্রীবেশে অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা সাধারণ মানুষের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
পুলিশের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার গভীর রাতে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা থেকে নগরীর রেসকোর্সে বাসায় যাওয়ার জন্য সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে জান্নাতুত তাজমীন। চালক সুমন মিয়া তাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নির্জন এলাকায় নিয়ে যান বলে পুলিশ জানায়। পরদিন লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
ঘটনার পর রাতে অপরিচিত সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত, চালকের পরিচয় যাচাই এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে দূরপাল্লার বাসে এসে মধ্যরাতে নেমে বাড়ি ফেরা যাত্রী, নারী ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়দের মতে, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে রাতে যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি মহাসড়কের আশপাশের নির্জন সড়ক, সংযোগপথ ও যাত্রী ওঠানামার স্থানগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো প্রয়োজন। জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে অপরাধপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে নিয়মিত নজরদারি চালালে অপরাধ প্রতিরোধে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন তারা।
সচেতন মহলের দাবি, ছিনতাইয়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। এ ছাড়া সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের পরিচয় ও যানবাহনের তথ্য সংরক্ষণ, অনিবন্ধিত যানবাহন চলাচল বন্ধ, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে বলে তারা মনে করেন।
জান্নাতুত তাজমীন হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনা প্রতিরোধে রাতের নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা এবং পরিবহণকেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, শুধু ঘটনার পর অভিযান নয়, অপরাধ সংঘটনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অপরাধের পরিসংখ্যান
জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভার তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের নয় মাসে কুমিল্লায় খুনের ঘটনা ঘটেছে ১১১টি। আগস্টে হত্যার মামলা ছিল ১১টি, সেপ্টেম্বরে ১৬টি। ডাকাতির মামলা ২টি থেকে বেড়ে ৩টি এবং চুরির মামলা ৩৫টি থেকে বেড়ে ৪৪টি হয়েছে। দস্যুতার মামলা হয়েছে পাঁচটি।
পুলিশের বক্তব্য
এ বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।
বিআলো/শিলি