চট্টগ্রাম নগরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রাক্তন ছাত্র সাথী-সদস্য সম্মেলনে দলটির আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা ও চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি। জনগণ লুটতরাজ, চাঁদাবাজি ও অন্যায়-অবিচার মেনে নেবে না। প্রত্যেককে নিজ নিজ কর্মকাণ্ডের জবাব দিতে হবে।
মঙ্গলবার নগরীর জিইসি কনভেনশন সেন্টারে চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াত আয়োজিত ‘ছাত্র ইসলামী আন্দোলনের প্রাক্তন সাথী-সদস্য সম্মেলন-২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মানুষের ওপর জুলুম করা, অধিকার হরণ করা এবং অন্যের হক নষ্ট করার পরিণতি সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অন্যায় করে কেউ পার পাবে না। আগামীতে প্রত্যেকটি অপরাধের হিসাব দিতে হবে।
ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্ব আমৃত্যু পালন করার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমীর বলেন, গত ১৭ বছরে তাঁদের ওপর ভিন্ন মাত্রার জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়েছে। শীর্ষস্থানীয় ১২ জন নেতাকে শতাব্দীর নিকৃষ্ট অপবাদ দিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ওই নেতারা এক আল্লাহর ওপর অবিচল ঈমান রেখেছিলেন এবং একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলে অসংখ্য নারী-পুরুষকে জীবন দিতে হয়েছে, অনেকে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন। বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে, জামায়াতে ইসলামী মানুষের আমানত রক্ষা করবে। এই বিশ্বাস এক দিনে তৈরি হয়নি।
প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের উদ্দেশে শফিকুর রহমান বলেন, হালাল পথে জীবিকা অর্জন করতে হবে এবং সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে জীবন পরিচালনা করতে হবে। কথার প্রতিযোগিতায় না গিয়ে আদর্শ, নৈতিকতা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।
তিনি বলেন, “এই দেশে ইসলাম কায়েম হবে, ইনসাফের বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হবে।”
সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, জুলাই আন্দোলনে কয়েকটি জেলার মধ্যে চট্টগ্রাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী আন্দোলন দুনিয়াবি স্বার্থ বা ব্যক্তিগত প্রাপ্তির জন্য নয়, বরং আদর্শিক বিশ্বাস ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেন, প্রাক্তন সাথী-সদস্যদের এই সম্মেলন কেবল মিলনমেলা নয়, দেশের প্রয়োজনে ও জাতির সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা পালনের প্রত্যয়।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, দেশের মানুষ আদর্শিক পরিবর্তনের অপেক্ষায় রয়েছে। ন্যায়বিচার, সততা ও জনকল্যাণের ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার পরিবেশ তৈরিতে সবাইকে ভূমিকা রাখতে হবে।
ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতের আমীর ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, ছাত্রজীবনে সংগঠন থেকে অর্জিত নীতি-নৈতিকতা, আদর্শ ও নেতৃত্বের গুণাবলি মূল সংগঠন ও সমাজজীবনে কাজে লাগাতে হবে।
ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে দলাদলি না করে বৃহত্তর লক্ষ্য অর্জনে ঐক্য, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে। জামায়াতের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত না হলে দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও রাহাজানি বন্ধ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী, ডাকসুর জিএস এস এম ফরহাদ, চাকসুর সাবেক ভিপি অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় দাওয়াহ সম্পাদক হাফেজ আবু মুসা এবং সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
সম্মেলনে কেন্দ্রীয়, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
The post জুলাইয়ে ছাত্র-জনতা লুটেরা-চাঁদাবাজদের জন্য রক্ত দেয়নি: ডা. শফিকুর রহমান appeared first on সুপ্রভাত বাংলাদেশ.
