স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে পাওয়া নতুন বাংলাদেশ আর কোনো বিভেদ, উসকানি ও হানাহানির রাজনীতিতে ফিরে যাবে না।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিজ নির্বাচনী এলাকা সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
এর আগে সকালে সাম্প্রতিক বন্যায় সনাতনী ইউনিয়নে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে ঢেউটিন ও অর্থ সহায়তা বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং বিকেলে বাঘাবাড়ি নৌবন্দর কর্তৃপক্ষের আয়োজনে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন।
খুকনি ইউনিয়নের একটি পূজামণ্ডপে গিয়ে তিনি বলেন, ‘অতীতে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সমাজে বিভাজন তৈরি করে নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের অপচেষ্টা করেছিল। কিন্তু বিএনপি সুস্থ সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকই এ দেশের সমান অংশীদার। ভোটের আগে ও পরে বিএনপি সব সময় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনদের পাশে ছিল এবং আগামীতেও থাকবে।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কথার রাজনীতি নয়, বরং কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর মূল লক্ষ্য-“সবার আগে বাংলাদেশ”।’ তাঁর ভাষ্য, প্রধানমন্ত্রী নিজে সাধারণ জীবনযাপন করেন এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও ভোগবিলাস পরিহার করে জনগণের সেবায় দিনরাত কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, সরকার ক্ষমতায় আসার এই আট মাসে সামাজিক শান্তি ফিরে এসেছে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও আনন্দঘন পরিবেশে উৎসব উদযাপন করতে পারেন, সেজন্যই সরকার এবার পূজার ছুটি দীর্ঘায়িত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কিছু রাজনৈতিক মহলের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, ‘আমরা যখন দেশ গঠনে দিনরাত কাজ করছি, তখন কিছু মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে বিভেদের রাজনীতি করছে। দেশের তরুণ সমাজ ও সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্র দেশের অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে না পারে।’
বিআলো/শিলি