দেশে এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে চারজন মারা গেছে। হাম ও উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও দুজনের। গতকাল সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। এদিকে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে।
বার্তায় বলা হয়, এক দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ১৬৭ জন। এর আগে রোববার এক দিনে সর্বোচ্চ ২ হাজার ১৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে সারা দেশে এ পর্যন্ত ৩০৭ জন মারা গেছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জন।
সারা দেশে ডেঙ্গুতে এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮৪ জন মারা গেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায়। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে খুলনা বিভাগে।
এদিকে, দেশে এক দিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর নিশ্চিত হামে ১০৪ ও হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৬০ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৬৪।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে বলা হয়, রোববার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গ নিয়ে ঢাকা ও সিলেট বিভাগে একজন করে মারা গেছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ১ হাজার ৪২১ জন রোগী এসেছে। বিভাগভিত্তিক হিসাবে, এ সময় ঢাকা বিভাগে ৫৮৯, রাজশাহীতে ৩২, সিলেটে ১৪৪, চট্টগ্রামে ২৭২, বরিশালে ১৩৭, ময়মনসিংহে ৯৫, খুলনায় ১১৩ ও রংপুরে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ লাখ ৮৩ হাজার ২২৬ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৬৬৫ জন চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে সন্দেহজনক হামের রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ২৯৭। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ২২ হাজার ৫৭৩ জন।
ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি লাখ ছাড়াল : দেশে নতুন করে ২ হাজার ১৬৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। ফলে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে ১ লাখ ১ হাজার ৪৪২ জনে দাঁড়িয়েছে। সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ডেঙ্গু-সংক্রান্ত ড্যাশবোর্ড থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, চলতি বছর ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া ৩০৭ জনের মধ্যে নারী ৫১ দশমিক ৩ ও পুরুষ ৪৮ দশমিক ৭ শতাংশ।
মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যায়নি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যায়।
সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। ওই মাসে ১৪৮ জনের মৃত্যু হয়। আর চলতি অক্টোবরের ১২ দিনেই মারা গেছে ৬২ জন। এর মধ্যে এক দিনে সর্বোচ্চ ১০ জনের মৃত্যু হয় ৬ অক্টোবর।
রোগী ভর্তির হিসাবেও সেপ্টেম্বর ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ মাসগুলোর একটি। ওই মাসে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৪৩ হাজার ৭৭৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। চলতি অক্টোবরের প্রথম ১২ দিনে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২১ হাজার ৮২২ জন।
চলতি বছরের প্রথম আট মাসে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিলÑ জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭, জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ এবং আগস্টে ২০ হাজার ৫৩৬ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৯৫ হাজার ৩৩১ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছে।