রংপুরের গঙ্গাচড়ায় বিড়ির ব্যবসা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতাকে মারধর ও দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে এক বিড়ি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলায় মাইদুল নামের একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে উপজেলার শেখপাড়া বাজারে মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
মারধরে আহতরা হলেন মর্ণেয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মীর কাসেম মিঠু ও একই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদ। আহত অপর দুজনের নাম জানা যায়নি। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বিড়ি ব্যবসায়ীর নাম রমজান আলী ওরফে জিতু।
বিএনপি নেতাদের অভিযোগ, হামলায় চারজন আহত হওয়ার পাশাপাশি কার্যালয়ের চেয়ার এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
আহত মীর কাসেম মিঠু বলেন, পাশের এলাকার একটি তালাকের বিষয় মীমাংসার জন্য কয়েকজনকে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে বসেছিলাম। হঠাৎ কয়েকটি মোটরসাইকেলে করে জিতুসহ ১৫ থেকে ২০ জন এসে আমাকে মারধর করেন। পরে কার্যালয়ের চেয়ার ও নেতাদের ছবি ভাঙচুর করা হয়। মাদকবিরোধী আন্দোলনে যুক্ত থাকায় তাঁর ওপর হামলা হয়ে থাকতে পারে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রমজান আলী ওরফে জিতু। তিনি বলেন, দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুজনের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়েছে, সেখানে কার্যালয়ে হামলার ঘটনা ঘটেনি। তাঁর দাবি, মিঠুর লোকজনই চেয়ার ও নেতাদের ছবি ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও তাঁর কাছে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
বিড়ির ব্যবসা নিয়ে বিরোধের বিষয়ে জিতু বলেন, ‘আমার বিড়ি যে এলাকায় চলে, মিঠুর বিড়িও সেই এলাকায় চলে। মূলত এ নিয়েই দ্বন্দ্বের সূত্রপাত।’
এদিকে, দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুরের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে কার্যালয়ের ভেতরে কয়েকটি চেয়ার ও দুটি দলীয় ব্যানার এলোমেলো অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় পেছন থেকে একজনকে ‘খালেদা জিয়ার ছবিটা ভাঙি দেও, জিয়ার ছবিটা, তারেক জিয়ার ছবিটা’ বলতে শোনা যায়। তবে ভিডিওতে কাউকে ভাঙচুর করতে দেখা যায়নি। এতে ওই তিন নেতার ছবিও অক্ষত দেখা যায়। অন্যদিকে, পরে প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে তাঁদের ছবি ভাঙচুর করা অবস্থায় দেখা গেছে। ভিডিও ও ছবিগুলো কখন ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনার পর রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রংপুর জেলা বিএনপির সদস্য মোকাররম হোসেন সুজন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী ও প্রচার দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি রুহুল আমিনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতারা। তাঁরা ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ সরকার বলেন, দলীয় কার্যালয় ও তিন নেতার ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ নেব।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছবুর বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলেছি। এ ঘটনায় করা মামলায় একজনকে আটক করা হয়েছে।
