কিন্তু কীভাবে কারাগার থেকে এত বড় সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়? পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, বিদেশে থাকা লরেন্সের বিশ্বস্ত সহযোগীরাই এই নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রেখেছেন। তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু গোল্ডি ব্রার, যিনি বর্তমানে কানাডায় অবস্থান করছেন এবং তার ছোট ভাই আনমোল বিষ্ণোই পুরো গ্যাং সামলাচ্ছেন। প্রায় ৭০০ জনের বেশি পেশাদার শ্যুটার নিয়ে গঠিত এই গ্যাংয়ের নির্দেশ আসে এনক্রিপ্টেড অ্যাপ কিংবা স্যাটেলাইট যোগাযোগের মাধ্যমে। বলিউড তারকাদের টার্গেট করে নিজেদের প্রভাব বাড়ানোর কৌশল নতুন নয়। সম্প্রতি অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর ঘটনা থেকে শুরু করে প্রবীণ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকি হত্যাকাণ্ড বা পাঞ্জাবি গায়ক সিধু মুসেওয়ালা হত্যার মতো ঘটনাগুলোতে সরাসরি নাম উঠে এসেছে এই বিষ্ণোই গ্যাংয়ের।
রাজনীতিবিদ, শিল্পপতি থেকে শুরু করে বলিউডের নামিদামি তারকাদের কাছে এক আতঙ্কের নাম লরেন্স বিষ্ণোই। অথচ গুজরাটের আহমেদাবাদের সবরমতী কেন্দ্রীয় কারাগারের উচ্চনিরাপত্তা বেষ্টনীতে তিনি বন্দি আছেন দীর্ঘদিন ধরে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশে আদালতের হাজিরা কিংবা জিজ্ঞাসাবাদ সবই হয় ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে। কিন্তু আদালতের কাঠগড়া কিংবা কারাগারের অন্ধকূপ, কোনো কিছুই ঠেকাতে পারছে না তার অপরাধ জগতের নেটওয়ার্কিং।
কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা সত্ত্বেও প্রায়ই ঘটছে বলিউডের তারকাদের ঘিরে হুমকি, চাঁদাবাজি ও গুলির ঘটনা। আর ভারতের কুখ্যাত গ্যাংস্টার লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম বারবার উঠে আসছে এসব ঘটনায়। পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে থেকেও কীভাবে তার অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে অনেকের। তবে তার উত্থানের গল্প শুধু অপরাধের নয়, এর শুরু ছাত্ররাজনীতির ময়দান থেকে। সময়ের সঙ্গে সেই পরিচয় বদলে গিয়ে তৈরি হয়েছে আন্তঃরাজ্য অপরাধী নেটওয়ার্ক।
নামের পেছনের গল্প
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের পরিচয় নিয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তার জন্মনাম বালকরন ব্রার। স্কুলজীবনে তিনি ‘লরেন্স বিষ্ণোই’ নামটি গ্রহণ করেন। অন্য একটি প্রতিবেদনে তার নাম লরেন্স হওয়ার পেছনে মায়ের ভূমিকার কথা বলা হয়েছে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, তার গায়ের রং ফর্সা হওয়ায় মা তার নাম রেখেছিলেন লরেন্স। তবে নাম পরিবর্তনের বিষয়ে একেক প্রতিবেদনে একেক রকম তথ্য পাওয়া যায়।
লরেন্সের জন্ম ১৯৯৩ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পাঞ্জাবের ফাজিলকায় বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আবার অন্য একটি প্রতিবেদনে ফিরোজপুর জেলার ধাত্তারানওয়ালি গ্রামের কথা বলা হয়েছে, যেখানে তার বেড়ে ওঠা। লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বাবা ছিলেন পুলিশ কনস্টেবল, এমন তথ্যেরও উল্লেখ বিভিন্ন প্রতিবেদনে রয়েছে। অন্য একটি প্রতিবেদনে তার বাবাকে সচ্ছল কৃষক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে কিছু মতভেদ রয়েছে।
বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের সদস্য লরেন্সের শৈশব কেটেছে পাঞ্জাবের গ্রামীণ পরিবেশে। এ সম্প্রদায়ের মানুষ পাঞ্জাব ছাড়াও হরিয়ানা ও রাজস্থানের বিভিন্ন এলাকায় বসবাস করেন। আবোহরে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ার পর ২০১০ সালে উচ্চশিক্ষার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। বাবার ইচ্ছা ছিল, ছেলে বড় হয়ে ভারতীয় প্রশাসনিক পরিষদের (আইএএস) কর্মকর্তা হবেন। কিন্তু লরেন্সের জীবনের গতিপথ শেষ পর্যন্ত অন্যদিকে মোড় নেয়।
ছাত্ররাজনীতি থেকে সংঘাতের শুরু
চণ্ডীগড়ে কলেজজীবনে লরেন্স ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তিনি ডিএভি কলেজে পড়াশোনা করেন এবং পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির ছাত্রসংগঠন স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন অব পাঞ্জাব ইউনিভার্সিটির (এসওপিইউ) হয়ে ২০১০ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে অংশ নেন। তবে সেই নির্বাচনে তিনি জয়ী হতে পারেননি।
একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর ক্ষুব্ধ লরেন্স বিজয়ী প্রার্থীর ওপর লোহার রড নিয়ে হামলা করেন। ওই সময়ই তিনি প্রথমবারের মতো একটি আগ্নেয়াস্ত্র কেনেন, যদিও সেটি ব্যবহার করেননি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ছাত্ররাজনীতির প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ার এই ঘটনাকে তার অপরাধজগতে প্রবেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব হিসেবে দেখা হয়।
ছাত্ররাজনীতির সূত্রেই তার পরিচয় হয় গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে। পরে এই সম্পর্ক অপরাধী নেটওয়ার্ক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। একই সময়ে তিনি জগ্গু ভগবানপুরিয়ার মতো গ্যাংস্টারদের সংস্পর্শে আসেন। তাদের কাছ থেকে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা পান বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
চাঁদাবাজি থেকে আন্তঃরাজ্য নেটওয়ার্ক
এ পর্যায়ে ধীরে ধীরে লরেন্সের অপরাধী তৎপরতা বিস্তৃত হতে থাকে। বিভিন্ন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি, মাদক পাচারকারী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ ওঠে লরেন্সের বিরুদ্ধে। পরে হরিয়ানা, দিল্লি ও রাজস্থানের অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তার যোগাযোগ তৈরি হয়। এভাবে স্থানীয় পর্যায়ের সংঘাতের গণ্ডি ছাড়িয়ে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নাম বৃহত্তর অপরাধী নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে।
২০১৪ সালে রাজস্থানে গ্রেফতার হন লরেন্স। পরে তাকে মোহালিতে নেয়ার সময় পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে নেপালে চলে যাওয়ার কথা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১৬ সালে তিনি আবারো গ্রেফতার হন। এরপর থেকে বিভিন্ন মামলায় তার নাম উঠে এসেছে। হত্যা ও চাঁদাবাজিসহ দুই ডজনের বেশি মামলার মুখোমুখি হওয়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার তদন্তে ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি) ও জাতীয় তদন্ত সংস্থাও (এনআইএ) যুক্ত রয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সালমান খানকে ঘিরে বিরোধ
বলিউডের সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের বিরোধ তাকে আরো বেশি আলোচনায় নিয়ে আসে। সালমান খানকে একাধিকবার হুমকি দেয়ার ঘটনায় গ্যাংটির নাম সামনে এসেছে। কেন সালমানকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও পুলিশের বক্তব্যে নানা প্রেক্ষাপট উঠে এসেছে। তবে প্রতিটি হুমকি বা হামলার ঘটনাই যে গ্যাংয়ের সংশ্লিষ্টতা আদালতে প্রমাণিত হয়েছে, এমন নয়।
২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর রাতে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিক ও ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির নেতা বাবা সিদ্দিককে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন কংগ্রেসের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ২০০৪ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস-এনসিপি জোট সরকারের রাজ্যমন্ত্রী ছিলেন। শাহরুখ খান ও সালমান খানের মতো বলিউড তারকাদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
মুম্বাই পুলিশ জানায়, এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন বন্দুকধারীর সঙ্গে লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গ্যাংয়ের যোগসূত্র রয়েছে। এর আগে পাঞ্জাবি গায়ক ও রাজনীতিক সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডেও গ্যাংটির নাম উঠে এসেছিল। এসব ঘটনায় লরেন্সের নাম আলোচনায় এলেও তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ও তদন্তে পাওয়া তথ্য মেলানো সম্ভব হয়নি।
কারাগারে থেকেও কীভাবে সক্রিয় গ্যাং
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের অপরাধী নেটওয়ার্ক নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, কারাগারে থেকেও কীভাবে তার নাম বিভিন্ন ঘটনায় উঠে আসে। ২০২২ সালে সিধু মুসেওয়ালার হত্যাকাণ্ডের পর পাঞ্জাব পুলিশের বক্তব্যে তার গ্যাংয়ের সম্ভাব্য সম্পৃক্ততার কথা আলোচনায় আসে। তখন লরেন্স দিল্লির তিহার কারাগারে বন্দী ছিলেন। এরপরও হত্যা ও চাঁদাবাজির বিভিন্ন ঘটনায় তার নাম আলোচনায় আসতে থাকে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, কারাগারে থাকা অবস্থায়ও তার গ্যাংয়ের সদস্যরা বাইরে সক্রিয় ছিলেন। বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের মাধ্যমে গ্যাংয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। তবে কারাগার থেকে সরাসরি নির্দেশ দেয়ার প্রতিটি অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্য প্রমাণ নেই। ফলে এই নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হয়, তা ব্যাখ্যা করতে হলে পুলিশি দাবি, তদন্তের তথ্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য আলাদা করে দেখা প্রয়োজন।
২০২৩ সালের ১০ মে লরেন্সকে গুজরাটের আহমেদাবাদের সাবরমতি কেন্দ্রীয় কারাগারে নেয়া হয়। ২০২৬ সালের আগস্টে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়তাঁর কারাগারের বাইরে যাতায়াতের ওপর বিধিনিষেধের আদেশ আবার নবায়ন করে বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদেশ অনুযায়ী, লরেন্সকে কারাগার থেকে অন্য কোথাও নেয়া যাবে না। আদালতে হাজিরাও ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হওয়ার কথা। অন্য রাজ্যের পুলিশ বা তদন্তকারী সংস্থা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাইলে কারাগারের ভেতরেই তা করতে হবে। বিশেষ অনুমতি ছাড়া তাকে সরাসরি হেফাজতে নেয়া যাবে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরে বাবা সিদ্দিক হত্যার পর মুম্বাই পুলিশের অপরাধ দমন শাখা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চেয়েছিল, কিন্তু সেই অনুমতি পায়নি। লরেন্সকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ অনুমতি নিতে হবে অথবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে। এমনকি কারাগারের বাইরেও তার যোগাযোগও সীমিত। যদিও বিভিন্ন মামলার বিষয়ে আইনজীবীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার সুযোগ রয়েছে তার।
টাইগার শ্রফকে ঘিরে গুলির ঘটনা
গত ১৮ অক্টোবর বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলির ঘটনার পর আবারো লরেন্সের গ্যাংয়ের নাম সামনে এসেছে। এ ঘটনার পর দুটি অডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এর একটিতে অনিল পণ্ডিত নামে এক ব্যক্তি নিজেকে লরেন্সের ‘ছোট ভাই’ পরিচয় দিয়ে চলচ্চিত্রশিল্পের এমন ব্যক্তিদের হত্যার হুমকি দেন, যারা তাদের সঙ্গে কাজ করেন না। অন্য অডিওতে তিনি দাউদ ইব্রাহিমের বিরুদ্ধে বলিউডের চলচ্চিত্র থেকে অর্থ আয়ের অভিযোগ তোলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টাইগার শ্রফের ওপর হামলার সময় তিনি ফুটবল খেলে জুহু থেকে ফিরছিলেন। সন্ধ্যা ৭টার দিকে পুষ্পা পার্কের কাছে ভক্তদের ভিড়ে তার গাড়ির গতি কমে যায়। তখন সামনে ও পাশ থেকে দুই বন্দুকধারী গুলি চালায়। পাঁচটি গুলি ছোড়ার পর ষষ্ঠবার গুলি চালাতে গিয়ে পিস্তল আটকে যায়। কাছেই মোটরসাইকেল চালু রেখে অপেক্ষা করছিলেন তৃতীয় আরেকজন। পরে অজ্ঞাত ওই তিনজনই মোটরসাইকেলে পালিয়ে যান।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, হামলার সঙ্গে জড়িত তিনজন নেপালে পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পরে রাজস্থানের কোটায় তাদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, লরেন্সের গ্যাংয়ের অনিল পণ্ডিত হামলার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার ফল গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গত চার বছরে অন্তত ১০ জন তারকার ওপর হামলার ঘটনায় লরেন্সের গ্যাংয়ের নাম উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় গ্যাংটির নাম কীভাবে বারবার সামনে আসছে, তা নিয়ে বলিউডে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দাউদ ইব্রাহিমের জায়গা নিতে চায়?
লরেন্সের গ্যাংকে ঘিরে আলোচনায় আরেকটি প্রশ্ন এসেছে, তিনি কি একসময়ের দাউদ ইব্রাহিমের মতো অপরাধী সাম্রাজ্য গড়ে তুলতে চান? টাইগার শ্রফের বাড়িতে হামলার পর ছড়িয়ে পড়া অডিওতে দাউদকে নিয়ে মন্তব্য থাকলেও সেটি থেকে লরেন্সের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অপরাধী নেটওয়ার্কের বিস্তার, বিভিন্ন রাজ্যের গ্যাংয়ের সঙ্গে যোগাযোগ এবং বিদেশে অবস্থানরত সহযোগীদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে।
লরেন্স বিষ্ণোইয়ের গল্পে ছাত্ররাজনীতির সংঘাত, অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক, চাঁদাবাজি, আলোচিত হত্যাকাণ্ড এবং কারাগারে থেকেও তার নাম জড়িয়ে পড়ার মতো নানা অধ্যায় রয়েছে। তবে তার প্রভাবের প্রকৃত পরিসর নির্ধারণ করতে হলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের পাশাপাশি তদন্তের নথি ও আদালতের সিদ্ধান্তও বিবেচনায় নিতে হবে। কারাগারের দেয়াল লরেন্সকে শারীরিকভাবে আটকে রাখলেও তার নামে পরিচালিত অপরাধী নেটওয়ার্কের কার্যক্রম আদতে কতটা সীমিত করা সম্ভব হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।
—দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও ভাস্কর ইংলিশ থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে
