কালবেলা · বিনোদন
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের গল্প নিয়ে 'দেশু ৭', দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন দেখার মতো
১৭/১০/২০২৬

বাংলা সিনেমার দুনিয়ায় জনপ্রিয় জুটি মানেই দর্শকের বাড়তি কৌতূহল। সেই চর্চিত জুটির সপ্তম ছবি হিসেবে যখন দেব ও শুভশ্রী একসঙ্গে ক্যামেরার সামনে আসেন, তখন বড় আয়োজনের প্রত্যাশা হওয়াই স্বাভাবিক। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতেই প্রেক্ষাগৃহে এসেছে নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’। এর আগে গত বছর মুক্তি পেয়েছিল এই জুটির শেষ ছবি ‘ধূমকেতু’। মাঝখানে দীর্ঘ বিরতি এবং বিভিন্ন রূপের পর পুরোনো সেই মাস এন্টারটেইনমেন্ট ঘরানায় ফিরলেন এই তারকা জুটি।
গল্পের শুরু ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কুখ্যাত এলাকা সীমান্তপুর দিয়ে। যেখানে অবৈধ পাচার, মাদক ব্যবসা আর চোরাচালানের রাজত্ব। সীমান্ত এলাকায় রাতের আঁধারে এক সন্ত্রাসী হামলায় প্রাণ হারান বেশ কয়েকজন ভারতীয় জওয়ান। সেই ঘটনার মূল হোতাদের খুঁজে বের করে শাস্তির মুখে দাঁড় করাতে জেলখানা থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় বাইরে আনা হয় সাবেক আইপিএস অফিসার দেবাদিত্য অধিকারী ওরফে দেবকে। দেশের সুরক্ষার স্বার্থে যেকোনো কঠিন পদক্ষেপ নিতে পিছপা হয় না সে। এভাবেই তাকে যুক্ত করা হয় ‘দেশের সুরক্ষা’ বা সংক্ষেপে ‘দেসু’ প্রজেক্টে। সীমান্তপুরে পা রেখে দেবের সঙ্গী হয় তিনজন সাহায্যকারী, খালাসি কাকা, হেলিকপ্টার ও মাসি। এদের সহযোগিতায় সে পৌঁছে যায় বড়দা অনুজয় চৌধুরী ও ছোটদা রনজয় চৌধুরীর আস্তানায়। সেখানে গিয়ে বড়দার স্ত্রী ডা. শুভস্মিতা দেবের দেখা পায় সে, যিনি একসময়ের তার প্রাক্তনী। পুরোনো ভালোবাসার মানুষটিকে ফিরে পাওয়ার আকুলতা আর অন্যদিকে কঠোর মিশন, এই দুইয়ের টানাপোড়েনেই এগিয়ে যায় সিনেমার গল্প।
একটি লম্বা সময় ধরে দর্শক ড্রয়িংরুম ড্রামা আর শহুরে সাবলীল গল্পের দিকে ঝুঁকেছিল। একই সঙ্গে রোমান্স, অ্যাকশন ও আবেগের সুষম মিশ্রণযুক্ত ছবির আকাল দেখা দিয়েছিল বড় পর্দায়। এমনকি দেব নিজেও তার চেনা মাসি ইমেজ ভেঙে অন্য ধারার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। ফলে দর্শক ও নায়ক উভয়ের পক্ষ থেকেই এমন একটি বাণিজ্যিক ছবির তীব্র চাহিদা ছিল। সেই শূন্যস্থান পূরণ করতেই হাজির হয়েছে ‘দেশু ৭’। শতভাগ বিশুদ্ধ বিনোদনে ভরপুর একটি জমজমাট কমার্সিয়াল ছবি বলা চলে একে।
দুই ঘণ্টা ছিয়াচল্লিশ মিনিটের এই সিনেমাটিতে টানটান উত্তেজনা ও বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপের জেরে সময় কীভাবে কেটে যায় তা বোঝাই যায় না। পরিচালক হিসেবে দেবের আত্মপ্রকাশ ঘটলেও রোহিত, সৌম্য, সম্রাট শর্মা ও দেবের যৌথ লেখা চিত্রনাট্য দর্শকদের এক বিন্দুও একঘেয়ে হতে দেয় না। ছবির তিনটি প্রধান স্তম্ভ দেব, শুভশ্রী ও অনির্বাণ হলেও এর বড় শক্তি রথিজিৎ ভট্টাচার্যের ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। মারকাটারি অ্যাকশন দৃশ্যের সঙ্গে গানগুলোর ব্যবহার দৃশ্যগুলোকে অন্য মাত্রা দিয়েছে। স্যাভি ও নীলায়ন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে গানগুলো বেশ জমে উঠেছে, বিশেষ করে ‘নাচে রে বাংলা’ এবং ‘ইলিশ চন্দনা’। শুভঙ্কর ভড়ের ক্যামেরা ও মোহাম্মদ কালামের সম্পাদনা বেশ ঝরঝরে। আইটেম গানে ইধিকা পালের পারফরম্যান্স নজর কাড়ে। এছাড়া ছবির সংলাপে দেব ও অনির্বাণের পুরোনো নানা সিগনেচার স্টाइলের ছোঁয়া রাখা হয়েছে।
খল চরিত্রে অনির্বাণ ভট্টাচার্যের উপস্থিতি সিনেমাটিকে আরও শক্ত ভিত্তি দিয়েছে। দুই যমজ ভাইয়ের দ্বৈত চরিত্রে তিনি যেভাবে পর্দায় হাজির হয়েছেন, তা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। খলনায়কের চরিত্রে তার অভিনয় দক্ষতাই পর্দায় আলাদা উত্তাপ ছড়ায়।
দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে পর্দায় ফিরলেও দেব ও শুভশ্রীর রসায়ন ছিল দেখার মতো। দুজনের বোঝাপড়ায় কোনো ঘাটতি ছিল না। পাশাপাশি প্রদীপ ভট্টাচার্য, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক ও পার্থসারথি চক্রবর্তীর মতো অভিনেতারা নিজেদের ছোট ছোট চরিত্রেও দুর্দান্ত কাজ করেছেন। রজতাভ দত্ত, লোকনাথ দে এবং সৌম্য সেনগুপ্তরাও সাধ্যমতো নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা সরকারকেও স্বল্প পরিসরে ভালো লেগেছে।
তবে কিছু ছোটখাটো অপূর্ণতাও রয়েছে। শম্পার চরিত্রে প্রিয়াঙ্কা সরকারকে এবং হীরা চরিত্রে লোকনাথ দেকে আরেকটু বেশি সময় স্ক্রিনে দেখা গেলে ভালো হতো। এছাড়া জেলের ভেতর দেবের যাওয়ার কারণ বা আইপিএস অফিসারের রিভলবারে সেফটি ক্যাচ না থাকার বিষয়টি কিছুটা খটকা লাগাতে পারে। তবে একটি নিখাদ কমার্সিয়াল মশলা ছবিতে এসব ছোট ত্রুটি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। সব মিলিয়ে উৎসবের মৌসুমে দর্শকদের পরিপূর্ণ বিনোদন দিতে প্রস্তুত ‘দেশু ৭’।
সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন
মূল প্রতিবেদনে যান ↗