বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে দক্ষিণী সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত নতুন অ্যাকশন-কমেডি সিনেমা ‘জেলার টু’। মুক্তির পরপরই দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে সিনেমাটি বিশ্ব বক্স অফিসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয়ের অবস্থান দখল করেছে। প্যারামাউন্ট পিকচার্সের ‘স্ট্রিট ফাইটার’-এর পরেই রয়েছে নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিনেমা।
আন্তর্জাতিক বক্স অফিস ট্র্যাকার রেন্ট্রাকের হিসাব অনুযায়ী, ১৬-১৮ অক্টোবরের মধ্যেই বিশ্বজুড়ে ৩ কোটি ১২ লাখ ডলার আয় করেছে সিনেমাটি। শুধু বিশ্ববাজারেই নয়, ভারতের প্রেক্ষাগৃহে ১৫ অক্টোবর মুক্তির পর প্রথম চারদিনের বর্ধিত সপ্তাহান্তেই এটি ঝুলিতে পুরেছে প্রায় ২২৪ কোটি রুপি। তামিল চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এটি এখন পর্যন্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ড। রজনীকান্ত অভিনীত ‘কুলি’ সিনেমার উদ্বোধনী আয়ের সঙ্গেও এর ব্যবধান সামান্য।
ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তামিলনাড়ু থেকে এসেছে সিনেমাটির সবচেয়ে বড় আয়ের অংশ—৮৪ লাখ ডলার। এছাড়া কেরালা, কর্ণাটক, অন্ধ্র প্রদেশ ও তেলেঙ্গানার দর্শকও সিনেমাটির আয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। উত্তর আমেরিকায় প্রথম সপ্তাহান্তে সিনেমাটি আয় করেছে ৩২ লাখ ডলার। সেখানে মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৫২ লাখ ডলারে। সিনেমাটি এরই মধ্যে উত্তর আমেরিকার বক্স অফিসেও নবম স্থান দখল করেছে।
সান পিকচার্সের প্রযোজনায় ও অনিরুদ্ধ রবিচন্দরের রোমাঞ্চকর সংগীতে সিকুয়ালটি দর্শককে প্রেক্ষাগৃহে টেনে আনছে নতুন উন্মাদনায়। এবারো ‘টাইগার’ মুথুভেল পান্ডিয়ান রূপে ফিরেছেন রজনীকান্ত। তবে বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির এ জয়রথের মূল ট্রাম্পকার্ড বিভিন্ন ভাষার তারকাবহুল কাস্টিং। তামিল অভিনেতা এসজে সূর্যকে দেখা যায় বোধি কালপাক চরিত্রে, আর বলিউড তারকা বিদ্যা বালান অভিনয় করেছেন কান্তা চরিত্রে।
তাদের সঙ্গে রয়েছেন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও মালয়ালম চলচ্চিত্রের অভিনেতা সুরাজ ভেঞ্জারামুডু। বিশেষ করে ১৯৮৬ সালের ‘ভগবান দাদা’র প্রায় ৪০ বছর পর পর্দা ভাগ করে আলাদা চমক দিয়েছেন রজনীকান্ত ও হৃতিক রোশন।
আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে সনির ‘রেসিডেন্ট ইভিল’ কিংবা ইউনিভার্সালের ‘আদার মমি’র মতো বিশ্বখ্যাত সব হলিউড ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলে ভারতীয় সিনেমার এ জয়জয়কার রজনীকান্তের চিরচেনা বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তারই সুষ্পষ্ট প্রমাণ দিল।
