সংবাদ · সাধারণ
চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার খালাসে নতুন রেকর্ড
২১/১০/২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালে (পিসিটি) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে। বন্দরটির সৌদি আরবভিত্তিক আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর ‘রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল’ (আরএসজিটি) পরিচালিত এই টার্মিনালে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১২২ টিইইউএস (TEUs) কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে।১৮ অক্টোবর ফরাসি শিপিং কোম্পানি সিএমএ সিজিএমের জাহাজ ‘এমভি আমুরো’তে কনটেইনার হ্যান্ডলিং করার সময় এ রেকর্ড গড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এ সময় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭২টি কনটেইনার মুভ সম্পন্ন হয়। মাত্র ২১ ঘণ্টার মধ্যে জাহাজটির ১ হাজার ৫২৪ বক্স কনটেইনার (যা ২ হাজার ৫৭১ টিইইউএসের সমতুল্য) সাফল্যের সঙ্গে খালাস ও লোড করা হয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের এই অভূতপূর্ব গতি বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিপিং লাইনগুলোর কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির এক ইতিবাচক বার্তা পাঠাবে।আরএসজিটি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত সেপ্টেম্বরে পিসিটিতে ঘণ্টায় ৫৮ বক্স বা ৮২ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড ছিল। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে সে রেকর্ড ভেঙে ঘণ্টায় ৭২ বক্স বা ১২২ টিইইউএস হ্যান্ডলিংয়ের নতুন মাইলফলক অর্জিত হলো। আগের রেকর্ডের তুলনায় ঘণ্টাওয়ারি কনটেইনার মুভ প্রায় ২৪ শতাংশ এবং টিইইউএস হিসেবে ৪৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গত আগস্টে পিসিটিতে শিপ-টু-শোর (এসটিএস) ক্রেন চালুর পর এটাই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উৎপাদনশীলতার রেকর্ড।বন্দর বিশেষজ্ঞরা জানান, কনটেইনার জাহাজ দ্রুত খালাস ও লোড হয়ে বন্দর ত্যাগ করতে পারলে জাহাজের টার্নঅ্যারাউন্ড টাইম বা অবস্থানকাল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এতে জাহাজ পরিচালনার ব্যয় নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বার্থের কার্যকর ব্যবহার এবং পরবর্তী জাহাজের জন্য দ্রুত জায়গা ফাঁকা করা সম্ভব হয়।উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের এপ্রিলে ২২ বছরের কনসেশন চুক্তির আওতায় আরএসজিটি বাংলাদেশ পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়। ২০২৫ সালে টার্মিনালটিতে ১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬৪ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছিল, যা এর বার্ষিক সাড়ে ৪ লাখ টিইইউএস সক্ষমতার তুলনায় কম ছিল। তবে পিসিটির আধুনিকায়নে সম্প্রতি আরএসজিটি বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করেছে। চীনের সানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রিজে তৈরি ৪টি আধুনিক শিপ-টু-শোর ক্রেন সংযোজনে প্রায় ৩ কোটি ডলার ব্যয় করা হয়েছে। নতুন এসব যন্ত্রপাতি সংযোজন ও দক্ষ পরিচালনায় আগামীতে এই ব্যবধান পুরোপুরি কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করছে কর্তৃপক্ষ।চট্টগ্রাম বন্দরে সামগ্রিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং ও জাহাজ আগমনও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড ৩৫ লাখ ১৮ হাজার ৮৪১ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করেছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৬.৭৬ শতাংশ বেশি। একই অর্থবছরে বন্দরে মোট ৪ হাজার ৩২৪টি জাহাজ আগমন করে।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗