চোরবাগান পুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু সন্দীপ বেইজ ও মা টগর বেইজেরগ্রাফিক্স: রুশিতা বোস দত্ত
Published on
:
2 min read
বৃষ্টির মধ্যে আচমকা শুরু হয় হুড়োহুড়ি। প্রবল বৃষ্টির মধ্যে একদল দর্শনার্থী চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে ঢোকার পরে তাঁরা বৃষ্টির জন্য বেরোচ্ছিলেন না। এর মধ্যেই আরও দর্শনার্থী ঢুকতে থাকে। সব মিলিয়ে ভিড় ঠেলে বেরোতে গিয়ে মাটিতে পড়ে যায় অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ বেইজ। তার সঙ্গে ছিল মা, মামি আর তার দিদি। ধাক্কার চোটে টাল সামলাতে পারেননি তারা। পদপৃষ্ট হতে হয় সন্দীপ ও তার মা, মামি। শুধু প্রাণে বেঁচে যায় তার দিদি।
মা টগর বেইজ ও দিদি আগমনী বেইজের সঙ্গে হুগলির বালিয়ায় মামার বাড়ি গিয়েছিল পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহির বীরপুর গ্রামের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র সন্দীপ বেইজ। তার বয়স ১৪। বৃহস্পতিবার তাঁরা মামার বাড়ির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। সেখান থেকে কলকাতার বিখ্যাত পুজো প্যান্ডেলগুলিতে ঠাকুর দেখে রবিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল সন্দীপদের। কিন্তু তার মধ্যেই ঘটে গেল চোরবাগান সর্বজনীনের এই পদপৃষ্ট হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা। সপ্তমীতে পরিবারের কাছে এল তাদের মৃত্যুসংবাদ। আর বাড়ি ফেরা হলো না ছোট সন্দীপের।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় সন্দীপ, তার মা, দিদি ও হুগলি জেলার বালিয়া গ্রামের বাসিন্দা সন্দীপের মামিমা পিয়ালী প্রামাণিক-সহ ৯ জন মিলে প্রতিমা দর্শনে বেরিয়েছিলেন। ঘুরতে ঘুরতে চোরবাগানের পুজো মণ্ডপে পৌঁছয়।
মণ্ডপে ঢোকার পরেই হঠাৎ প্রচণ্ড ঠেলাঠেলি শুরু হয় বলে অভিযোগ। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে একসঙ্গে প্রচুর দর্শনার্থী দলে দলে মণ্ডপে ঢুকে পড়ে। মণ্ডপের ভিতরে যাঁরা ছিলেন, তাঁরাও বাইরে বেরোচ্ছিলেন না। ফলে একটা সময়ে পরে ভিড়ের চাপে বাঁধ ভেঙে যায়। তাতেই পড়ে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় সন্দীপ, তার মা ও মামিমার। তবে সন্দীপের দিদি আগমনী সুস্থ রয়েছে ।
এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমেছে পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি থানার বীরপুরে। পরিবার সূত্রে, রবিবার বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁদের। কিন্তু আর বাড়ি ফেরা হলো না। বৃহস্পতিবার বর্ধমানের বীরপুর থেকে বাপের বাড়ি গিয়েছিল টগর বেইজ ও তাঁর দুই সন্তান সন্দীপ বেইজ ও আগমনী বেইজ। সে দিন তাঁরা হুগলির বালিয়ায় বাপের বাড়ি গিয়েছিল। সেখান থেকে শুক্রবার কলকাতা যায় ঠাকুর দেখতে যায় তারা।
এরপর সপ্তমীর সন্ধ্যায় কলকাতার চোরবাগান পুজো মন্ডপে এই ঘটনা ঘটে। ঠাকুর দেখতে গিয়ে এ ভাবে মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকস্তদ্ধ গোটা পরিবার।
