দ্রুততম সময়ের মধ্যেই দৃশ্যমান হতে যাচ্ছে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার জানিয়েছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই মেগা প্রকল্পের যাবতীয় কাজ শেষ করে শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য পার্কটি পুরোপুরি প্রস্তুত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্পপার্কের সম্মেলন কক্ষে স্থানীয় অংশীজনদের সাথে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব বলেন, "২০১২ সালে সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্কের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘদিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। তবে বর্তমান সরকার উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরে বদ্ধপরিকর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের পূর্বে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সিরাজগঞ্জ বিসিক শিল্প পার্ক দ্রুততম সময়ে দৃশ্যমান করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেই নির্দেশনা ও প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় বর্তমানে দ্রুত গতিতে কাজ চলছে। আশা করছি আগামী দুই-এক বছরের মধ্যেই প্রকল্পের শতভাগ কাজ সম্পন্ন হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার হিসেবে সিরাজগঞ্জের ভৌগোলিক গুরুত্ব অপরিসীম। এই শিল্প পার্কটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে এখানে দেশি-বিদেশি বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে, যা এই অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। শিল্পোদ্যোক্তাদের জন্য গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ সব ধরনের আধুনিক নাগরিক ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার বিষয়েও সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় শিল্পপার্কের অগ্রগতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্লট বরাদ্দ প্রক্রিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সুযোগ-সুবিধা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় বিসিকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং ব্যবসায়ী নেতারা আলোচনায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।
মতবিনিময় সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার বিসিক শিল্পপার্ক কার্যালয় চত্বরে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ফলদ ও বনজ বৃক্ষের চারা রোপণ করেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কেএম
