রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে হেনস্তার অভিযোগ সাংবাদিকের, ‘প্রোপাগান্ডা’ বলছে কংগ্রেস

প্রভাত ডেস্ক: ভারতের রাজধানী দিল্লির সুপ্রিম কোর্ট চত্বরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বিক্ষোভ চলাকালে এক নারী সাংবাদিককে শারীরিকভাবে হেনস্তা করার অভিযোগ উঠেছে লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে। তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এবং ‘ওয়ান ইন্ডিয়া’ পোর্টালের সাংবাদিক রিচা পরাশরের অভিযোগ, রাহুল গান্ধী তার হাত ধরে সজোরে টান দেন এবং ধাক্কা দিয়ে তাকে মাটিতে ফেলে দেন। খবর এনডিটিভি।
এই ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই সাংবাদিকের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তবে কংগ্রেস নেতৃত্ব এই অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে একে বিজেপির মনগড়া অপপ্রচার বলে অভিহিত করেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গণমাধ্যমকে রিচা পরাশর জানান, তিনি সুপ্রিম কোর্ট গেটের সামনে রাহুলের একটি সাউন্ডবাইটের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। রাহুল গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি মাইক্রোফোন বাড়িয়ে ধরলে রাহুল তা সরিয়ে দিতে ইশারা করেন। এরপর অন্য সাংবাদিকদের ভিড়ে তিনি আবার মাইক্রোফোন সামনে এগিয়ে দেন।
রিচার অভিযোগ, ‘হঠাৎ করেই রাহুল গান্ধী অত্যন্ত অপ্রসন্ন মুখে আমার দিকে এগিয়ে আসেন এবং আমার হাত শক্ত করে ধরে সজোরে টান দেন। এত জোরে তিনি টানেন যে ভিড়ের মধ্যে আমি ভারসাম্য হারিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিঁড়িতে মুখ থুবড়ে পড়ে যাই। এ সময় আমার ক্যামেরাপারসনও ধাক্কা খেয়ে আমার ওপর পড়ে যান। এতে আমার হাঁটু ও পেটে মারাত্মক আঘাত লাগে।’
হাসপাতালে রিচাকে দেখতে গিয়ে বিজেপির মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারীসহ দলের নেতারা রাহুল গান্ধীর তীব্র সমালোচনা করে বলেন, যিনি ‘নারী ক্ষমতায়ন’ ও অধিকারের কথা বলেন, তার এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অপরদিকে কংগ্রেস নেত্রী অলকা লাম্বা এক্স (সাবেক টুইটার)-এ একটি পোস্টে এই অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে বলেন, ঘটনার টাইমলাইন ও বয়ানে অসঙ্গতি রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘গর্ভবতী অবস্থায় বিক্ষোভ কভার করা যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি বলা হচ্ছে ঘটনা ঘটেছে বিকাল ৩-৪টার দিকে, অথচ হাসপাতালে ভর্তি করা হলো রাত সাড়ে আটটায়। এছাড়া গর্ভাবস্থায় সচরাচর এক্স-রে করা না হলেও এ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে।’ কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারাও ঘটনাস্থলের কিছু ভিডিও শেয়ার করে দাবি করেছেন, ভিডিওগুলোতে রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে ওঠা ওই অভিযোগের কোনও সত্যতা নেই।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ‘এসআইআর’ বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে চলা এই রাজনৈতিক উত্তাপের মাঝে নারী সাংবাদিককে হেনস্তার বিষয়টি এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
More News Of This Category

