জিয়ানি ইনফান্তিনো। বিশ্ব ফুটবলের বস। বিতর্ক যার নিত্যসঙ্গী। তাঁর ফিফা সভাপতি নির্বাচন এখনও প্রশ্নের মুখে। বারবার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে আর্থিক দুর্নীতি-পক্ষপাতের অভিযোগ। এবার আরও এক বিতর্ক ইনফান্তিনোকে নিয়ে। এক সংবাদমাধ্যমের দাবি, ফিফা সভাপতি পদে একবার নয়, দু’বার বেতন নিয়েছেন তিনি। যার একটি ফিফার স্বীকৃতি সরকারি বেতন। অপরটি গোপনে।
ফিফা এবং মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজস্ব পরিষেবার নথি অনুসারে, এক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে বড় অঙ্কের অর্থ পেয়েছেন ইনফান্তিনো। যা আগে প্রকাশই করা হয়নি। ২০২৪ সালে ইনফান্তিনো নিজের নিয়মিত বেতনের বাইরে ওই টাকা নিয়েছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি ফের স্ক্যানারে। জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালে ইনফান্তিনোর বেতন ছিল ভারতীয় মুদ্রায় ৪৮.৮ কোটি টাকা। কিন্তু পরে দেখা যায়, বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য ফিফা যে পৃথক সংস্থা তৈরি করেছিল সেই সংস্থা থেকে ইনফান্তিনো অতিরিক্ত ১৬.৭৬ কোটি টাকা বেতন পেয়েছেন।
অর্থাৎ ফিফা সভাপতি হিসাবে তিনি ফিফা থেকে বেতন পেয়েছেন। আবার বিশ্বকাপ আয়োজনের জন্য আলাদা করে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক নিয়েছেন। অথচ বিশ্বকাপের আয়োজনটা ফিফা সভাপতির নিয়মিত কাজের মধ্যেই পড়ে। এই অতিরিক্ত পারিশ্রমিক ঘিরে স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
চমকপ্রদভাবে ২০২৫ সালের পর রাতারাতি বেতন অনেকটা বেড়ে যায় ইনফান্তিনোর। তাঁর মূল বার্ষিক বেতন ২৬ লক্ষ সুইস ফ্রাঁতে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে ২০২৫ সালে তাঁর বার্ষিক বোনাস একধাক্কায় ৩৩ শতাংশ বেড়েছে। আগে যা ছিল ১৬.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ, এখন তা দাঁড়িয়েছে ২২ লক্ষে। অর্থাৎ, শুধু বোনাস বাবদই বৃদ্ধি পেয়েছে ৫.৫ লক্ষ সুইস ফ্রাঁ। এছাড়াও তিনি ২৪ হাজার সুইস ফ্রা অনুদান হিসাবে পান। সব মিলিয়ে এখন তাঁর বেতনটা ভারতীয় মুদ্রায় ৫৭ কোটি ২০ লক্ষ। রাতারাতি ২০২৫ সালে ফিফা সভাপতির বেতন বাড়ল কেন? সেই নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
