বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী লাঞ্চিত, মেয়ে-জামাতার বিরুদ্ধে মারধর ও বাড়ি দখলের অভিযোগ
যে বাড়িতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কেটেছে জীবনের দীর্ঘ সময়, স্বামীর মৃত্যুর পর সেই বাড়িতেই আজ নিজেকে পরবাসী মনে করছেন মোছা. ফাতেমা বেগম। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম হাসান আলীর স্ত্রী। নিজের চতুর্থ মেয়ে ও জামাতা তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া এবং বসতবাড়ি দখলে রাখার অভিযোগ তুলেও এখনো কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি তিনি। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনাটি নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার ২ নম্বর দুর্গাপুর ইউনিয়নের থাওসালপাড়া গ্রামের।
ফাতেমা বেগমের অভিযোগ, তাঁর ছয় মেয়ে রয়েছে, কোনো ছেলে সন্তান নেই। তাঁদের মধ্যে পাঁচ মেয়ে তাঁর দেখাশোনা করেন। কিন্তু প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে তাঁর চতুর্থ মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন সুইটি ও জামাতা মো. বাবুল মিয়া (ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি) জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে উঠে পড়েন। পরে তাঁকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুরো বসতবাড়ি দখলে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ফাতেমা বেগমের দাবি, শুধু বাড়ি থেকে বের করে দেওয়াই নয়, তাঁর অন্য মেয়েদেরও পৈতৃক বাড়িতে আসতে বাঁধা দেওয়া হচ্ছে। এতে স্বামীর রেখে যাওয়া বসতবাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিজের বাড়িতে স্বাভাবিকভাবে বসবাসের অধিকার ফিরে পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তিনি। এ নিয়ে থানায় দুইবার জিডি করার পরেও প্রতিকার পাননিÑদাবি ওই পরিবারের।
ফাতেমা বেগমের আরেক মেয়ে মোছা. শাহিনুর আক্তার অভিযোগ করে বলেন, তাঁর বোন ও বোনজামাই মিলে তাঁদের মাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। পরিবারের সম্পত্তিও তাঁরা এককভাবে দখলে রেখেছেন। তাঁর বোন ও বোনজামাই মিলে তাঁদের মাকে মারধরও করেছেন।
ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে আরেক মেয়ে শাহিনুর আক্তার বলেন, “আমার মা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী, আর আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে। তারপরও আমাদের বাড়িঘর ও সম্পত্তি নিয়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। আমরা থানায় দুইবার জিডি করেছি। এরপরও যদি ন্যায়বিচার না পাই, তাহলে কোথায় গেলে বিচার পাব? দয়া করে আমার মাকে তাঁর অীধকার ফিরিয়ে দিন।
অভিযোগকারী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত জামাতা মো. বাবুল মিয়া ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তার পিতার নাম মোহাম্মদ কুদরত আলী। তার নাম রাজনৈতিক একাধিক মামলা থাকলেও অজ্ঞাত কারনে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করছে না।
ফাতেমা বেগমের বলেন, নিজের স্বামীর রেখে যাওয়া বাড়িতে আবারও নিরাপদে বসবাস করতে চাই। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আইন অনুযায়ী সম্পত্তিসংক্রান্ত বিরোধের সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হউক। দীর্ঘদিনের বসতবাড়ি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তাঁরা মানসিক ও পারিবারিক সংকটে পড়েছেন।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, আগে অভিযোগ করা হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। তবে বর্তমানে এ বিষয়ে একটি অভিযোগ হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।