

ছবি:সংগৃহীত
সৌদি আরবের মদিনায় মসজিদে নববীতে গত সেপ্টেম্বরে ২ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭ জন মানুষ এসেছেন। দুই পবিত্র মসজিদের সেবা ও তত্ত্বাবধানবিষয়ক জেনারেল অথরিটি এ তথ্য জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, এ সময়ে ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ জন দর্শনার্থী রওজা শরীফে নামাজ আদায় করেছেন। এ ছাড়া ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৩০ জন দর্শনার্থী পথনির্দেশনা সেবা এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৬ জন অতিথি সেবাকেন্দ্রের সেবা নিয়েছেন।
দর্শনার্থীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সময়ে ৮১ হাজার ২৪৩ জন মসজিদে নববীর গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেছেন। অন্যদিকে মসজিদটির বিভিন্ন প্রদর্শনী পরিদর্শন করেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৭ জন।কর্তৃপক্ষ জানায়, এসব পরিসংখ্যান দর্শনার্থীদের উন্নত মানের সেবা দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এর মাধ্যমে মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মসজিদে নববীতে শান্ত পরিবেশে নামাজ আদায়ের সুযোগ সহজ করা হচ্ছে। সূত্র : সৌদি গেজেট
দাঙ্গা ঠেকাতে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কারফিউ জারি
ফ্রান্সে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহ দাঙ্গা ও লুটপাটের ঘটনার পর রাজধানী প্যারিসের দুটি এলাকায় রাতভর কারফিউ জারি করেছে পুলিশ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে এ নির্দেশ কার্যকর হয়। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৮টা থেকে ওই এলাকায় জমায়েত ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষা এবং সহিংসতা ও লুটপাট ঠেকাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শনিবারের বিক্ষোভে প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকায় দাঙ্গা হয়। অন্যদিকে, লে আল এলাকার বিভিন্ন দোকানে লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে এলাকাগুলোতে কারফিউ জারি করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত ১১টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত এ কারফিউ কার্যকর থাকবে। এ সময় কেউ ওই দুই এলাকায় প্রবেশ করতে বা অবস্থান করতে পারবেন না। এর আগে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সীমিত পরিসরে এবং নির্দিষ্ট এলাকায় কারফিউ জারির আহ্বান জানান। দেশটির উত্তরাঞ্চলের লিলসহ কয়েকটি শহরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য সোমবার (১৯ অক্টোবর) থেকে পরবর্তী দুই দিন রাত ৮টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে। ফরাসি রিভিয়েরা অঞ্চলের নিস শহরেও অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রাত ৯টা থেকে কারফিউ কার্যকর হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু বলেন, ব্যাপক সহিংসতা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও কেউ নিহত হননি, যা অলৌকিক ঘটনা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের কারফিউ জারি করা হবে, তা নিয়ে মেয়রদের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পদত্যাগ গ্রহণ করেননি মাখোঁ দাঙ্গার ঘটনায় দায়িত্ব নিয়ে রোববার (১৮ অক্টোবর) পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নেতৃত্বে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তার পদত্যাগ গ্রহণ করেননি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতার আগে পরিকল্পনা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহে কোথায় ব্যর্থতা ছিল, তা খতিয়ে দেখে পূর্ণ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন মাখোঁ। পাশাপাশি দ্রুত নতুন পুলিশি কৌশল চালুর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। রোববার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্যারিস, লিয়ঁ, মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি দল ময়লার পাত্র, সাইকেল ও অন্যান্য জিনিসে আগুন দেয়। বিভিন্ন দোকানেও লুটপাট চালানো হয়। এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুরবস্থার প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ হয়। এসব ঘটনায় পুরো ফ্রান্সে অন্তত ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) কর্তৃপক্ষ জানায়, বিভিন্ন শহরে অন্তত ৩ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বা লুটপাটের শিকার হয়েছে। মার্সেইয়ে সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বিক্ষোভ ও অন্যান্য জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নুনেজ ফ্রান্সের একটি বেতারকে বলেন, চলমান পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেকে দায়ী মনে করেই পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করা। এ ধরনের বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও পূর্বাভাসের ক্ষেত্রে আরও কার্যকর হতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। নুনেজের অভিযোগ, দাঙ্গার পেছনে লুটপাটকারীদের পাশাপাশি কট্টর বামপন্থী কর্মীরাও জড়িত। তার মতে, দ্রুত স্থান পরিবর্তন করে এমন দলগুলোর মোকাবিলায় পুলিশের কৌশল বদলানো প্রয়োজন। ক্ষতিগ্রস্ত দোকানপাট, পুড়েছে পৌর ভবন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কয়েক শ মানুষের দল বিভিন্ন স্থানে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছে। তারা নগর ভবনসহ সরকারি স্থাপনা ও কার্যালয়েও হামলা চালিয়েছে। মধ্য ফ্রান্সের লিমোজ শহরে ১৯ শতকের একটি পৌর ভবনে আগুন লাগে। এতে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে এবং স্থাপনাটি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়।সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্যারিসের বিভিন্ন সড়কে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও দমকলকর্মীদের ভাঙা কাচসহ অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ সরাতে দেখা যায়। প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপাবলিক এলাকার কাছে একটি ভিডিও গেমের দোকানের মালিক উরি জাগুরি জানান, শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেলে তিনি দোকান বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে নজরদারি ক্যামেরায় দেখেন, লুটপাটকারীরা জোর করে দোকানে ঢুকছে। তিনি পুলিশকে ফোন করলেও তাকে হস্তক্ষেপ না করতে বলা হয়। পুলিশ আসার কথা জানালেও শেষ পর্যন্ত কেউ আসেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি। সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ বিরোধীদের কট্টর ডানপন্থী দল ন্যাশনাল র্যালির সভাপতি জর্দান বারদেলা দাঙ্গা ঠেকাতে সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রপ্রধানের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব, কিন্তু সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান—দুজনই সেই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন। বারদেলা ফ্রান্সের জনগণকে শুধু বিক্ষোভের অধিকার প্রয়োগ নয়, ভোটের মাধ্যমেও নিজেদের মত প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি আগামী বসন্তের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাওয়া দলটির নেতা মারিন ল্য পেনের সঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন। বিভিন্ন জনমত জরিপে ল্য পেনকে নির্বাচনের সম্ভাব্য এগিয়ে থাকা প্রার্থী হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সূত্র: এপি

দাঙ্গায় জ্বলছে ফ্রান্স, আগুনের পাশেই মদপানে মত্ত দম্পতি
ফ্রান্সে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের মধ্যে এক দম্পতির মদপানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। চারপাশে আগুন জ্বললেও প্যারিসের একটি দোকানের বাইরের টেবিলে বসে ওই দম্পতিকে নির্বিকারভাবে গল্প করতে ও ধূমপান করতে দেখা যায়। ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আইকনিক স্থাপনা আর্ক দ্য ত্রিয়োম্ফের কাছাকাছি একটি দোকানের বাইরে বসে সময় কাটাচ্ছেন ওই দম্পতি। তাদের ঠিক পেছনেই দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছিল। তবে আশপাশের ভয়াবহ পরিস্থিতি তাদের মধ্যে দৃশ্যত কোনো উদ্বেগ তৈরি করেনি। এদিকে প্যারিসে ধারণ করা আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন একটি রাস্তা দিয়ে এক নারী দৌড়ে যাচ্ছেন। এ সময় রাস্তায় জ্বলন্ত ই-বাইকের স্তূপ ও বিক্ষোভকারীদের পাশ কাটিয়ে এগিয়ে যান তিনি। ফ্রান্সের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় আড়াই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৮৫৫ জনকে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে সহিংস গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিলাসবহুল দোকানপাটেও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। রোববার(১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ সহিংসতার নিন্দা জানান। তিনি এ পরিস্থিতির জন্য উগ্র বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধী চক্রগুলোকে দায়ী করেন। তবে সোমবার(১৯ অক্টোবর) তিন দিনের সফরে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েন ম্যাক্রোঁ। সমালোচকদের কেউ কেউ তাকে ‘বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন’ ও ‘অহংকারী’ বলে আখ্যা দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু প্যারিসের কয়েকটি এলাকা এবং দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইসহ বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করেন। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় দেশটির আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

কলম্বিয়ায় সোনার খনি ধসে নিহত ১৪
কলম্বিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে একটি অবৈধ সোনার খনি ধসে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ রয়েছেন ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানিয়েছে। দেশটির নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার প্রত্যন্ত চামবেরো এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নারিনোর গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার জানিয়েছেন, খনিতে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ শ্রমিকদের সন্ধানে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। নারিনো দুর্যোগ মোকাবিলা বিভাগের কর্মকর্তা হোর্হে তোভার কাস্তিয়ো জানান, দুর্গম এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে ঘন বৃষ্টিবনবেষ্টিত একটি দুর্গম অঞ্চল। সেখানে নৌকা কিংবা ছোট উড়োজাহাজে করে পৌঁছানো সম্ভব। ফলে দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গভর্নর এসকোবার খনিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ মুহূর্তে কর্তৃপক্ষের প্রধান অগ্রাধিকার মানুষের জীবন রক্ষা করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা। কলম্বিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে অনানুষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রণহীন খননকাজের প্রবণতা রয়েছে। এসব খনিতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও অবকাঠামোর অভাবে প্রায়ই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে, গত আগস্টে নারিনো বিভাগের পোলিকারপা পৌরসভায় একই ধরনের এক খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত হয়েছিলেন।

সৌদি আরবে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ, রিয়াদে সতর্কতা জারি
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এর আগে শহরটিতে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছিল দেশটির কর্তৃপক্ষ। সৌদি বাহিনী রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে দেশটির নেতৃত্বাধীন জোট। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন। এর আগে সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বার্তা পাঠানো হয়েছে। এদিকে, ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন, সৌদি বাহিনী রাজধানী রিয়াদমুখী একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হুথি মিলিশিয়াদের রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আরব। তবে রিয়াদে বিস্ফোরণের ঘটনায় কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। সূত্র: এএফপি

আসামে ১১০০ মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টির বেশি মসজিদ
ভারতের আসাম রাজ্যে দুই দিনে এক হাজার ১০০টির বেশি মুসলিম পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, গোলাঘাট ও হোজাই জেলায় এসব অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাঙালি মুসলিম। অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৭ অক্টোবর এক দিনেই তিন জেলায় ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার রয়েছে। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। অভিযান শুরুর আগেই অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর খবর পেয়ে নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। বনভূমি দখলমুক্ত করার এ অভিযান আরও চলতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন। পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল। উচ্ছেদে বাড়ি হারানো আবদুল নূর জানান, ১৯৭৪ সালে তার পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তবে উচ্ছেদ অভিযানে তাদের কয়েক দশকের বসতি হারাতে হয়েছে। এ সময় ১০টিরও বেশি পুরোনো মসজিদ ভেঙে ফেলা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলোর কয়েকজন সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তবে তারা প্রতিকার পাননি। গত জুনে আদালত তাদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়। এর আগে গত বছরের নভেম্বরে লুটুমারি এলাকায় পৃথক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হোজাই জেলার যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং গোলাঘাট জেলার ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকাতেও উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। অন্যদিকে, উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করছেন এবং তাদের পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বন বিভাগের কাজের সম্পর্ক ছিল। সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বনভূমি সংরক্ষণ ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বসতি, ভূমির অধিকার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।


