পুরভোটের আগে ফের এক বার টানাপড়েন শুরু হল মমতা-তৃণমূল, গণতান্ত্রিক তৃণমূল এবং তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের যোগ দেওয়া দল এনসিপিআই-এর মধ্যে। জোড়াফুলের প্রতীকে জেতা গণতান্ত্রিক তৃণমূলের ১০ বিধায়কের বিধায়কপদ খারিজের দাবিতে মমতা-তৃণমূলের সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা মামলা এতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
দল ও প্রতীকের দাবিতে তৎপরতা বাড়িয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের বিধায়কেরা। এই দুইয়ের স্বত্ব রক্ষায় মমতা-তৃণমূল যেমন মরণ কামড় দিয়েছে, ঠিক তেমনই আইনি লড়াইয়ের সব অস্ত্র মজুত করছে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরও। পুজোর মরসুম শেষে শুক্রবার বৈঠক ডেকে এই নিয়ে প্রস্তুতিও নিয়েছেন গণতান্ত্রিক তৃণমূলের নেতারা। বিজয়া সম্মিলনী হিসাবে ডাকা এ দিনের বৈঠকে একই সঙ্গে কলকাতা পুরভোটের আগে জলও মেপেছেন তাঁরা। বৈঠকের পরে গণতান্ত্রিক তৃণমূলের চেয়ারপার্সন অরূপ রায় জানিয়েছেন, পুরভোটে তাঁরা একাই লড়তে চান, এনসিপিআই-এর সঙ্গে তাঁদের কোনও সম্পর্ক নেই। কিন্তু এই শিবিরেরই নেতা, বিধায়ক মদন মিত্রের মতে, পুরভোটে বিজেপিকে হারাতে হলে সাবেক তৃণমূলের সব অংশের এক জোট হয়ে লড়াইয়ে যাওয়া উচিত। তবে সেই সংক্রান্ত আহ্বান জানাতে হবে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই।
পাশাপাশি, ঋতব্রতদের বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে মমতা-তৃণমূলের তরফে মনোনীত বিধায়ক দলের নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় আবার মামলা দায়ের করেছেন। আগে শোভনদেবদের এই দাবি খারিজ হয়ে গেলেও এ বার সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁরা।
এরই মধ্যে, সকাল থেকে তৃণমূল ছেড়ে এনসিপিআইয়ে যোগ দেওয়া সাংসদদের একটি প্রচার ঘিরে রাজনীতিতে গুঞ্জন শুরু হয়ে যায়। মধ্য কলকাতার কিছু জায়গায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ছবির সঙ্গে তৃণমূল ছেড়ে আসা ওই সাংসদ দলের ছবি ঘিরেই শুরু হয় চর্চা। সেই ফ্লেক্সে ওই সাংসদদের নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিতে কালো কালি লেপে দেওয়ার ঘটনা ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। উল্লেখ্য, কালি লেপা সেই ফ্লেক্সের ছবি সামনে এনেছেন মমতা-তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। শুধু তাই নয়, সমাজমাধ্যমে বিজেপি-এনসিপিআই সম্পর্ক নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন তিনি। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে কুণালের সামনে আনা ওই পোস্টারে মোদী, শুভেন্দুর সঙ্গে এনসিপিআই-এর বাকি সাংসদদের সঙ্গে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদ খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান এবং ইউসুফ পাঠানেরও ছবি রয়েছে। অথচ, এই তিন জন অতীতে বরাবরই দাবি করেছেন, তাঁরা বিজেপি বা এনডিএ-র সঙ্গে নেই। খলিলুর অবশ্য এ দিনও বলেছেন, “পোস্টারটি কেউ আমাদের জিজ্ঞাসা করে তৈরি করেননি। বাজার গরম করার জন্য কুণালবাবু এই সব করছেন। আমি, তাহের ভাই এবং ইউসুফ পাঠান আগেও বলেছি, আমরা বিজেপি, এনডিএ-তে নেই। তবে নিজেদের সংসদ এলাকার স্বার্থে আমরা বিষয়-ভিত্তিতে এনডিএ-কে সমর্থন করব।”
স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে এনসিপিআই ২০ সাংসদ। — ফাইল চিত্র।
এনসিপিআই-এর পোস্টারে বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের বার্তা থাকলেও রাজ্য বিজেপি অবশ্য বিষয়টিকে উপেক্ষা করেছে। দলের পুরভোটের প্রস্তুতি বৈঠকের আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘‘আমরা একক ভাবে ভোট লড়ব। আমাদের লক্ষ্য, কলকাতা ও হাওড়ায় কাজের মেয়র দেওয়া।’’
এই প্রতিবেদনটি প্রথমে আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণে প্রকাশিত হয়েছে
