ছবির ক্যাপশন: .
বিশেষ প্রতিনিধি
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন ( বিএডিসি) এর বীজ পরিস্কার ও বাছাইকরন যন্ত্র ক্রয়ের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ তিনি ঘুষ গ্রহণ করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ খতিয়ে টেন্ডার পুনর্মূল্যায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রী ও কৃষি সচিবের নিকট আবেদন ও করেছেন ভুক্তভোগী একটি প্রতিষ্ঠান।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস ( পিপিআর) না মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পছন্দের ঠিকাদারকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে যা আইনবহির্ভূত। আর এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রকৌশলী মো. হাফিজ ফারুক ন্যক্কারজনক ভাবে হস্তক্ষেপ করেছেন। ক্রয় প্রক্রিয়াটি পুনরায় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে অভিযোগ পত্রে।
প্রকৌশলী হাফিজ ফারুকের বিরুদ্ধে অভিযোগকারীর প্রধান অভিযোগ তিনি বিএডিসির বিভিন্ন প্রকল্পে দায়িত্ব পালনকালে নগ্নভাবে প্রভাব খাটিয়ে তার পছন্দের ঠিকাদারদের অনৈতিক সুবিধা দিয়েছেন।
অভিযোগে প্রকাশ,প্রকৌশলী মো. হাফিজ ফারুক বর্তমানে বিএডিসির একটি প্রকল্পের পরিচালক ইব্রাহিম খলিলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। প্রায় ১৫ মাস আগে তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময়ের মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বানিজ্যের বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার।
অভিযোগকারী বলেন, সম্প্রতি একটি দরপত্রে অংশগ্রহণকারী এক ঠিকাদার নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করতে ব্যর্থ হলেও তাকে কাজ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেন হাফিজ ফারুক। তার দাবি ওই ঠিকাদারের প্রয়োজনীয় কাজের অভিজ্ঞতা না থাকলেও ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে দরপত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে প্রকৌশলী হাফিজ ফারুক অগ্রনী ভুমিকা পালন করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয় ভুয়া তথ্য ও কাগজপত্র ব্যবহারের কারনে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে কালো তালিকাভুক্ত করার সুযোগ থাকলেও তা না করে তাকে কাজ পাইয়ে দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়। ইসলাম এন্টারপ্রাইজ নামের প্রতিষ্ঠানকে ক্লিনার কাম গ্রেডার ( আইডি নং- ১২১৭২৮৮) ও ব্যাগ সুইং মেশিন ( আইডি নং- ১১৭৮৭৭৬) এর কার্যাদেশ দেয়ার পেছনে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও তুলেছেন অভিযোগ পত্রে।
সংশ্লিষ্ট প্রকল্পে প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং পছন্দের ঠিকাদারকে সুবিধা দিতে অপ্রয়োজনীয় ও প্রশ্নবিদ্ধ নথির ভিত্তিতে কাজ দেয়ার মাধ্যমে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থের অপচয় হয়েছে বলে অভিযোগে প্রকাশ। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের দাবি প্রকৌশলী হাফিজ ফারুকের বিরুদ্ধে ঘুষ ও কমিশন বানিজ্যের অভিযোগ নিয়ে ঠিকাদার মহলে দীর্ঘদিন যাবত মুখরোচক আলোচনা চলছে। অভিযোগকারীর ভাষ্য প্রকৌশলী হাফিজ ফারুক বিভিন্ন সময় বলে থাকেন যে উর্ধ্বতন পর্যায়ে বিভিন্ন বিষয়াদি ম্যানেজ করতে হয় এবং সেই জন্য অর্থের প্রয়োজন হয়। তবে এ বক্তব্যের স্বপক্ষে কোন শক্ত প্রমান পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ভর্তুকি ও উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় করে থাকে। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রকল্পের কার্যকারিতা ও সুশাসনের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে আসে।
অভিযোগের বিষয়ে প্রকৌশলী মো. হাফিজ ফারুকের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে ক্ষুদেবার্তা পাঠানো হলেও তার কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ইব্রাহিম খলিল বলেন, এমন একটি অভিযোগ আমার দপ্তরে এসেছে। বিষয় টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি এবং অভিযোগের ব্যাপারে খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে চেষ্টা করবো। তিনি আরো বলেন, আমার প্রকল্পে কোন রকমের দুর্নীতি, অনিয়ম এর সুযোগ নেই। প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কোন প্রকার দুর্নীতি বা অনিয়মের সাথে আপোষ করবেন না বলেও তিনি জানান।
