গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তা না দিলে আগুন দিয়ে মার্কেট পুড়িয়ে দেয়ার হুমকির ঘটনায় জুয়েল আহমেদ (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গ্রেফতারের পর জুয়েল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
গ্রেফতার জুয়েল জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ থানার কাঠারবিল গ্রামের সাদা মিয়ার ছেলে। তিনি গত প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে গাজীপুরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করে আসছিলেন।
পিবিআই জানায়, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন করে হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের পরিচালনা কমিটির কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে জুয়েল। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সে মার্কেটটি পুড়িয়ে দেয়াসহ হত্যার হুমকি দেন। এর আগে ২০২২ সালের ২৫ ডিসেম্বর এই মার্কেটটিতে আগুনের ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়। ওই আগুনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জুয়েল হুমকি দেয় যে, চাঁদা না দিলে এবার এর চেয়েও বড় ক্ষতি করা হবে।
এ ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে মার্কেট পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো: মিলটন হোসেন ৬ অক্টোবর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) বাসন থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে ১২ অক্টোবর পিবিআই গাজীপুর জেলা স্ব-উদ্যোগে এর তদন্তভার গ্রহণ করে।
এরপর তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১২ অক্টোবর দিবাগত রাত ১২টা ৫০ মিনিটে বাসন থানাধীন দীঘিরচালা এলাকা থেকে জুয়েলকে গ্রেফতার করে পিবিআইয়ের একটি বিশেষ তদন্ত দল।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, অনলাইন ক্যাসিনো ও জুয়ায় আসক্ত হয়ে জুয়েল বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় তিন লাখ টাকা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই ঋণের টাকা পরিশোধ করতেই সে মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে নম্বর সংগ্রহ করে এই চাঁদাবাজির পরিকল্পনা করে। হুমকির মুখে ভয় পেয়ে মার্কেট কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার বিকাশের মাধ্যমে তাকে তিন হাজার এবং শনিবার দুই হাজার টাকা দেয়। সোমবার তাকে আরো পঞ্চাশ হাজার টাকা দেয়ার কথা ছিল।
এ বিষয়ে পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো: রকিবুল আক্তার বলেন, ‘একটি সফল অভিযানের মাধ্যমে আমরা একটি সম্ভাব্য নাশকতা রুখে দিতে পেরেছি। আসন্ন শীতের শুষ্ক মৌসুমে আগুন রোধে প্রতিটি মার্কেটে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। চাঁদাবাজি ঠেকাতে সিসিটিভি স্থাপন ও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা জরুরি।’
তিনি আরো বলেন, ‘অনলাইন গ্যাম্বলিং ও ক্যাসিনো আসক্তি থেকে যুবসমাজকে বের করে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এই চাঁদাবাজির ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
