ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৯৫৪
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->দেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গু নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৯৫৪ জন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে দুজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন এবং চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন করে মারা গেছেন।
আরও পড়ুন
গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি ৪৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া বরিশাল বিভাগে ১৯৬ জন, চট্টগ্রামে ৩১৮, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৮৯, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৯১, খুলনায় ২৩০, ময়মনসিংহে ৯৭, রাজশাহীতে ১৮৪, রংপুরে ৭১ এবং সিলেট বিভাগে ১৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গুতে মোট ৩১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে প্রাণ হারিয়েছেন ১৪২ জন।
আরও পড়ুন
এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ৬৫ জন, চট্টগ্রামে ২৮ জন, বরিশালে ২৬ জন, ময়মনসিংহে ২৪ জন, রাজশাহীতে ২২ জন, রংপুরে ৬ জন এবং সিলেট বিভাগে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
সালমান/
আরও পড়ুন
রেলওয়ের জায়গা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করা হবে: রেলমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->রেলওয়ের দখল হয়ে যাওয়া জমিগুলো চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথমে রেলের প্রয়োজনে এবং পরে রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এসব জমি ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ মো. রবিউল আলম।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শন করেন মন্ত্রী। পরিদর্শন শেষে দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, নীলফামারীর সৈয়দপুর রেলওয়ের ২৫ একর জায়গা এক সময় পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তবে পৌরসভা প্রায় ৬০ থেকে ৭০ একর জায়গা দখলে করে আছে। জমির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে বিরোধ রয়েছে, যা বর্তমানে অনেকটা আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে।
আরও পড়ুন
তিনি আরও বলেন, রেলওয়ের জমি ব্যক্তি ও বিভিন্ন গোষ্ঠীকে লাইসেন্সের ভিত্তিতে এক বছরের জন্য ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়। বর্তমানে লিজ দেওয়া বন্ধ রয়েছে। রেলওয়ের যে-সব জায়গা দখল হয়ে আছে, সেগুলো চিহ্নিত করে বিস্তারিত বিবরণ নির্ধারণ করা হচ্ছে। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে এসব জমি দখলমুক্ত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুরে প্রায় ২ হাজার ৪০০টি রেলওয়ে আবাসন রয়েছে। এর মধ্যে বসবাস করছেন প্রায় ৯০০ জন। পুরোনো আবাসনের জন্য যে পরিমাণ হাউস রেন্ট কাটা হয়, তার চেয়ে কম টাকায় বাইরে ভালো বাসা ভাড়া পাওয়া যায়। এ কারণে অনেকে রেলওয়ের আবাসনে থাকতে আগ্রহী নন। ফলে আবাসনের কোনো সংকট নেই।
আরও পড়ুন
রেলওয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশের রেলওয়েতে আমূল পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রেলযাত্রার ঐতিহ্য ও প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় যাত্রীবান্ধব রেলসেবা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। এটি সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার। রেলওয়ের দুটি কারখানাকে কীভাবে এ উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা যায়, তা পর্যালোচনা করতেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা পরিদর্শনে আসা।
তিনি বলেন, কারখানায় তৈরি কিছু যন্ত্রাংশের মান দেখে তারা আশ্বস্ত হয়েছেন। তবে এখানে রেলকোচ মেরামতের মান আরও উন্নত করতে হবে। পুরোনো কিছু মেশিন ভালো মানের হলেও কোচের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে জানালা মেরামতের ক্ষেত্রে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্ত্রী জানান, পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে মিলিয়ে প্রায় ৪০০টি কোচ মেরামতের অপেক্ষায় রয়েছে। এসব কোচ মেরামত করে পুনরায় সচল করতে দক্ষ কারিগর নিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
রেলওয়ে হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় হাসপাতাল পরিচালনা এবং চিকিৎসক-নার্সের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দেশের প্রায় ৯টি রেলওয়ে হাসপাতাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, একসময় এটি দেশের একটি প্রতিষ্ঠিত ও সুনামধন্য কারখানা ছিল। ১৮৬২ থেকে ১৮৭০ সালের মধ্যে এখানে কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সঙ্গে রেলওয়ের প্রয়োজনীয়তা বাড়লেও সে অনুযায়ী কারখানাটির উন্নয়ন হয়নি। একসময় এখানে প্রায় ১২ হাজার ধরনের যন্ত্রাংশ তৈরি হতো, যা বর্তমানে কমে ৬৫৪ থেকে ৬৫৫টিতে দাঁড়িয়েছে। ফলে অনেক যন্ত্রাংশ এখন আমদানি করতে হচ্ছে। অথচ এ কারখানায় আরও অনেক যন্ত্রাংশ তৈরি করা সম্ভব।
ফরহাদ হোসাইন/নাঈম
আরও পড়ুন
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুই ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা স্থাপন
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। ছবি: খবরের কাগজ
-->পাবনার ঈশ্বরদীর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ও দ্বিতীয় ইউনিটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা (এপিসিএস) স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়াও রাশিয়ার বাইরে রূপপুর রোসাটমের প্রথম প্রকল্প যেখানে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস) বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটম এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
রোসাটম এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা করছে আর ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছে রোসাটমের প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট।
আরও পড়ুন
রোসাটমের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের অটোমেটেড কন্ট্রোল সিস্টেমস (আরএএসইউ) সরবরাহকৃত এ ব্যবস্থায় ৪৩টি সিস্টেমের অধীনে প্রায় ২০ হাজার যন্ত্রপাতি রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে চুল্লির স্থিতিশীলতাসহ প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট ৭ হাজারেরও বেশি প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করা হবে- যা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ ও দক্ষ পরিচালনায় সহায়তা করবে।
এ ব্যবস্থার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (ওআইএসএস)। বিদ্যুৎ ইউনিটের ডিজিটাল টুইন প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম (আরএএসইউ) এটি তৈরি করেছে। প্রথম ইউনিটে ইতোমধ্যে সিস্টেমটি সংযুক্ত করা হয়েছে এবং এটি স্টার্ট-আপ কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। দ্বিতীয় ইউনিটেও একই ধরনের ব্যবস্থা স্থাপন করা হবে।
আরও পড়ুন
রোসাটম জানায়, এআইসিএস ৩৬০টি প্রক্রিয়া-সংশ্লিষ্ট সিস্টেম থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করে, সম্ভাব্য বিচ্যুতি শনাক্ত করে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় নির্দেশনাসহ ৮০টিরও বেশি নির্দেশিকার ভিত্তিতে অপারেটরদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়। জটিল পরিচালনা-সংক্রান্ত তথ্য সহজবোধ্যভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে এটি অপারেটরদের তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এবং আরও কার্যকরভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে সহায়তা করে।
রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সেই লিখাচেভ বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র শুধু রাশিয়া ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার সবচেয়ে বড় প্রকল্পই নয়, আধুনিক স্বয়ংক্রিয়করণ ও নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও এটি আমাদের একটি অগ্রণী প্রকল্প। বিদেশে রোসাটমের নির্মিত কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই প্রথম অপারেটর ইনফরমেশন সাপোর্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, এ সিস্টেম পরিস্থিতি মোকাবিলায় রেসপন্স টাইম কমাবে, পরিচালন ব্যয় হ্রাস করবে এবং নিয়ন্ত্রণকক্ষের কর্মীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
জাহাঙ্গীর/নাঈম
আরও পড়ুন
সৌদি হামলায় হতাহত প্রবাসীদের খোঁজ রাখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০১ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলায় নিহত প্রবাসী ও আহত শ্রমিকদের বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি জানান, পাঁচটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রবাসী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছেন পররাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের প্রবাসীদের সতর্ক আহবান জানিয়েছেন মন্ত্রী বলেন, এই পরিস্থিতিতে সকল প্রবাসীদের সতর্ক ও নিরাপদ দূরত্বে থাকা প্রয়োজন। পাশাপাশি যে কোন সমস্যায় দূতাবাসের নাম্বারে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যান মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির অনিয়মের কারণে ইতোমধ্যে ৫২টি বড় রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। ট্রাভেল এজেন্সির অনিয়ম বন্ধে অনলাইন ভিত্তিক কঠোর নজরদারি চলছে বলেও জানান তিনি।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় শ্রমজীবী মহিলা হোস্টেল ও ৫ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল কমপ্লেক্স পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় মন্ত্রী আগামী আগামী ৭ নভেম্বরের মধ্যে নারী শ্রমিকদের আবাসন ও হাসপাতাল প্রকল্প চালু করার প্রতিশ্রুতি দেন।
আরও পড়ুন
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম, বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিবানী সরকারসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বিল্লাল হোসাইন/এসএন
আরও পড়ুন
আরও পড়ুন
‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না’
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ পিএম
ছবি: সংগৃহীত
-->মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রজনন মৌসুমে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, ‘বুকে হাত দিয়ে বলুন, কোনো ইলিশ ধরব না।’ এ সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়বে এবং দীর্ঘ মেয়াদে জেলেরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদী বড় খান বাড়ির মাঠে মৎস্য অধিদপ্তর, চাঁদপুরের উদ্যোগে আয়োজিত ভিজিএফের চাল বিতরণ ও জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবন-জীবিকার সঙ্গে দেশের অর্থনীতি ও খাদ্যনিরাপত্তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তাই এ খাতের মানুষের উন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেরা যাতে খাদ্যসংকটে না পড়েন, সে জন্য সরকার খাদ্যসহায়তা দিচ্ছে। তবে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি জেলেদের বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে।
আরও পড়ুন
জেলেদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে খাঁচায় ভাসমান মাছ চাষের মতো আধুনিক পদ্ধতি চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিকল্প পদ্ধতিতে মাছ চাষের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞার সময়েও আয়ের সুযোগ তৈরি করা সম্ভব। জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন ও মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।
চাঁদপুরের মৎস্যসম্পদের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইলিশ উৎপাদন ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে এ জেলার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এ সম্পদ সংরক্ষণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি উপকৃত হবে এবং জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
আরও পড়ুন
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু মৎস্য অধিদপ্তর বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়। এ সম্পদ রক্ষায় জেলে, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় সম্পদ। চাঁদপুরের পরিচিতি ও অর্থনীতির সঙ্গে এ মাছের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলা জরুরি। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জীবন-জীবিকা সচল রাখতে ভিজিএফের খাদ্যসহায়তা প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোও নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ও নৌ পুলিশ সুপার সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।
সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর ফারুকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুল ইসলাম।
এ সময় চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সালিম উল্লাহ সেলিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) একরামুল সিদ্দিক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমাসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এসএন/
