আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়ালু নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতু দিয়ে চীনের সীমান্তবর্তী শহর দানদংয়ে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন।
২৪ অক্টোবর শনিবার তিনি সেখানে যান বলে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। সেতুটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর প্রায় ১ সপ্তাহ পর কিম এই সফরে গেলেন। দক্ষিণ কোরিয়ার এক কর্মকর্তা জানান, দানদংয়ে কিমের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং।
দি গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ৪ লেনের এই সেতুর নির্মাণকাজ ২০১৪ সালে শেষ হয়। তবে সংযোগ সড়ক ও শুল্ক সংক্রান্ত অবকাঠামো না থাকায় এত দিন তা চালু করা যায়নি। সেতুটি দিয়ে দিনরাত কনটেইনার ও ভারী পণ্যবাহী যান চলাচলের ব্যবস্থা থাকবে। এতে ২ দেশের মধ্যে পণ্য পরিবহন ও বাণিজ্য আরও বাড়বে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে চাইছেন কিম। চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার এবং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থক। অন্যদিকে ২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরুর পর মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে বেইজিংয়ে বিজয় দিবসের ৮০তম বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে চীন সফর করেছিলেন কিম। চলতি বছরের জুনে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উত্তর কোরিয়া সফর করেন। সে সময় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, কৃষি, নির্মাণ ও প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে উত্তর কোরিয়ার। কিমের বোন কিম ইয়ো জং সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সিউলের সমালোচনা করে প্রায় ১০টি বিবৃতি দিয়েছেন, যেটিকে দক্ষিণ কোরিয়ার একত্রীকরণ মন্ত্রণালয় অস্বাভাবিক বলে অভিহিত করেছে এবং তিনি কয়েক দিনের মধ্যেই সীমান্তে লাউড স্পিকার সম্প্রচার পুনরায় শুরু করার পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছেন।
আগামী ১৮-১৯ নভেম্বর শেনজেনে অ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলনের আয়োজন করবেন শি, যা কিম ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে বৈঠকের জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। তবে রয়টার্স শুক্রবার জানিয়েছে যে, মার্কিন ও দক্ষিণ কোরীয় কর্মকর্তারা এ বছর কিমের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সাক্ষাতের সম্ভাবনা কম দেখছেন।
এটিভি/এসটিও
