Published on
:
3 min read
সাবেকি প্রতিমা বা সাধারণ মণ্ডপ সজ্জা নয়। নানা রকমের থিমের উপরে ভিত্তি করে দুর্গাপুজোর প্যান্ডেল এবং প্রতিমা সাজানো হয়। সামাজিক বিষয় থেকে শুরু করে নানা পৌরাণিক আখ্যান কিংবা ইতিহাসের কোনও ঘটনা ফুটে ওঠে মণ্ডপসজ্জায়। ব্যতিক্রম নয় সল্টলেক-নিউ টাউনও। এই এলাকার বেশ কিছু পুজো প্যান্ডেলে এ বার ফুটে উঠেছে নানা রকমের আকর্ষণীয় থিম। কোথাও মহাভারতের আখ্যান, আবার কোথাও হারিয়ে যাওয়া গ্রামোফোন কিংবা বাংলার লুপ্তপ্রায় লোকশিল্পের নিদর্শন রয়েছে এই পুজোর প্যান্ডেলগুলিতে।
Ei Samay
মহাভারতের আখ্যান সল্টলেকের EC ব্লকের পুজোয়
সল্টলেকের EC ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পুজো এ বার ৫০তম বছরে পদার্পণ করেছে। এ বছর তাদের থিম ‘অক্ষয়িনী’। শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্যের ভাবনায় মণ্ডপজুড়ে ফুটে উঠতে দেখা যাবে মহাভারতের আখ্যান। শিল্পীর দাবি, এই পুজোর প্যান্ডেল হয় মাঠের মধ্যে। ফলে, অনেকটা জায়গা মেলায় মহাকাব্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরার জন্য বড় ক্যানভাস পাওয়া যাচ্ছে। পুরাণ ও মহাভারতের কাহিনির উপরে ভিত্তি করে এই উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলেই আশা উদ্যোক্তাদের।
Ei Samay
সল্টলেক AK ব্লকের থিম অন্নপূর্ণার হাঁড়ি
কথায় বলে ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’। বাঙালির খাদ্যাভাসে ভাতের গুরুত্ব রয়েছে। বাংলার লোকসাহিত্যেও উল্লেখ রয়েছে ভাতের। আর এ বার সেই থিমই ফুটে উঠেছে সল্টলেকের একে ব্লকের দুর্গাপুজোয়। প্রায় ১৬০০ বর্গফুটের বিশাল একটি হাঁড়ির আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের ‘অন্নদামঙ্গল’ কাব্যের ঈশ্বরী পাটনি প্রার্থনা করেছিলেন, ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, ভারতচন্দ্রের কাব্যের সে কথাই একে ব্লকের পুজোর ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু। মণ্ডপের ভেতরে ভাত ফোটার দৃশ্যও ফুটিয়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।
Ei Samay
সল্টলেকের FD ব্লকের পুজোয় বাংলার লোকশিল্পের ছোঁয়া
সল্টলেকের FD ব্লকের দুর্গাপুজো কমিটির পুজো এ বার ৪২তম বর্ষে পদার্পণ করছে। শিল্পী প্রশান্ত পালের ভাবনায় এ বার তাদের থিম ‘নকশি কণার মাঠ’। সুতো, রঙিন কাপড়, নকশা এবং ঝুলন্ত পুতুলের মাধ্যমে গ্রামবাংলার লোকশিল্প ও হারিয়ে যেতে বসা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হচ্ছে এই পুজোয়। পুজোর থিমের ভাবনা শুভজিৎ সাঁতরার।
Ei Samay
নিউ টাউনের পুজোয় ফিরবে গ্রামোফোনের সোনালি দিন
এক সময়ে গান শোনার জন্য শ্রোতাদের কাছে গ্রামোফোনই ছিল একমাত্র উপায়। তবে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তির উন্নতিতে ধীরে ধীরে হারিয়ে গিয়েছে গ্রামোফোন। পুজোর নবম বর্ষে তাই নিউ টাউনের সিএ ব্লক কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর থিম গ্রামোফোন। কী ভাবে গ্রামোফোনের সূচনা হলো তা থেকে শুরু করে বাংলা সঙ্গীত জগতের স্বর্ণযুগের শিল্পীদের অবদান তুলে ধরা হয়েছে এই থিম-ভাবনায়। পুজোর দিনগুলিতে পুরোনো দিনের স্মৃতিই দর্শকদের কাছে ফিরিয়ে দিতে চান উদ্যোক্তারা।
Ei Samay
নিউ টাউন সর্বজনীনের থিম ‘পদ্ম-ভূষণ’
নিউ টাউন সর্বজনীন দুর্গাপুজোর এ বার পঞ্চম বর্ষ। এ বছর তাদের থিম ‘পদ্ম-ভূষণ’। বাংলার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পদ্মের কী তাৎপর্য তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই পুজোতে। এই থিমকে পুজোর মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলছেন শিল্পী রিন্টু পাল
