সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বদলি হলে তাদের সন্তানদের জন্য আলাদা ভর্তির সুযোগ থাকছে। সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রতি শ্রেণির শাখায় মোট আসনের ৫ শতাংশ অতিরিক্ত আসন রাখা হবে। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালায় এই বিধান রয়েছে।
নীতিমালার ১৮ ধারায় বদলির কারণে ভর্তির সুযোগ ও শর্ত বলা হয়েছে। এই সুবিধা পেতে হলে বদলির আদেশের তারিখ থেকে ১২ মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। আবেদন করতে হবে ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে। সঙ্গে প্রয়োজনীয় প্রমাণ দিতে হবে।
মহানগর, সিটি কর্পোরেশন ও বিভাগীয় শহরের ক্ষেত্রে একটি আলাদা শর্ত আছে। নতুন কর্মস্থল আগের জায়গা থেকে ১০ কিলোমিটারের বেশি দূরে হলে সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। দূরত্ব মাপা হবে গুগল ম্যাপ অনুযায়ী। ভর্তি হবে কর্মস্থলের কাছের সরকারি বা বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। জেলা, উপজেলা ও থানার ক্ষেত্রেও সন্তান কর্মস্থলের কাছের বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে।
সরকারি বিদ্যালয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা এ ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আগের কর্মস্থলে আবার বদলি হয়ে এলে তার সন্তান আগের স্কুলে আবার ভর্তি হতে পারবে। বিভিন্ন কোটায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের মূল কাগজপত্র যাচাই করবেন প্রতিষ্ঠান প্রধান। এরপর ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে।
একই শ্রেণিতে পারস্পরিক বদলির সুযোগও আছে। এজন্য দুই বিদ্যালয়ের সম্মতি লাগবে। শিক্ষার্থী বা অভিভাবককে ভর্তি কমিটির সভাপতির কাছে আবেদন করতে হবে। কমিটি নীতিমালা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্যও অতিরিক্ত আসন থাকবে। ভর্তির উপযুক্ত সন্তানের সংখ্যার সমান আসন সংরক্ষিত থাকবে। শিক্ষক বালক বিদ্যালয়ে কাজ করলে এবং সন্তান মেয়ে হলে কাছের সরকারি বালিকা বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। শিক্ষক বালিকা বিদ্যালয়ে কাজ করলে এবং সন্তান ছেলে হলে কাছের সরকারি বালক বা সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। শিক্ষক সহশিক্ষা বিদ্যালয়ে থাকলে সন্তানের আসন সেই বিদ্যালয়েই রাখা হবে। সেই স্কুলে কাঙ্ক্ষিত শ্রেণি না থাকলে কাছের অন্য উপযুক্ত বিদ্যালয়ে আসন রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান ব্যবস্থা নিয়ে ভর্তি কমিটিকে জানাবেন।
কর্মরত অবস্থায় কোনো সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী মারা গেলে তার সন্তান ভর্তির সুযোগ পাবে। সন্তান যে এলাকায় স্থায়ীভাবে থাকবে, সেখানকার সরকারি স্কুলে ভর্তি হতে পারবে। ভর্তি কমিটি এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।
সরকারি স্কুলের যে শিক্ষার্থীর বাবা-মা নেই, তার জন্যও সুযোগ রাখা হয়েছে। সে বাসস্থান বদলালে নতুন এলাকার সরকারি স্কুলে একই শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে। বাবা-মায়ের মৃত্যুর কারণে বাসস্থান বদলালেও একই সুযোগ মিলবে। ভর্তি কমিটি এসব ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।