সাধারণ মাথাবথা আর মাইগ্রেনের মাথাব্যথার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে বিস্তর। দুই ধরনের মাথা ব্যথার কারণ যেমন আলাদা হয় তেমনি এই দুই ধরনের মাথা ব্যথায় প্রভাব থেকে শুরু করে লক্ষণ সব কিছুর মধ্যেই বেশ কিছু পার্থক্য থাকে। সেই লক্ষণগুলো থেকেই কোনটা সাধারণ মাথা ব্যথা আর কোনটা মাইগ্রেনের মাথাব্যথা, তার মধ্যে পার্থক্য করা যেতে পারে।
মাথা ব্যাথা কি?
সাধারণ মাথা ব্যাথা হলে মাথাব্যথার সাথেই এক ধরনের চাপও অনুভব হয়। এই মাথা ব্যথা পুরো মাথা জুড়ে হতে পারে ঠিকই কিন্তু সেটা কতটা জায়গা জুড়ে হবে তার মধ্যে কম-বেশি পার্থক্য থাকে। যখন সাধারণ মাথা ব্যাথা শুরু হয় তখন তার প্রভাব কপাল থেকে ঘাড়ের উপরের অংশে পর্যন্ত থাকতে পারে। তবে এই ব্যথার স্থায়ীত্ব ৫ মিনিট থেকে চার ঘন্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।
উল্লেখ্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তরফ থেকে এই বিষয়ে বলা হয়েছে মাঝেমধ্যেই অতিরিক্ত চাপের কারণে কিংবা দুশ্চিন্তা থেকে আবার কখনও চোখের ওপর চাপ পড়লেও মাথা ব্যাথা হতে পারে।
মাইগ্রেন কি?
মাইগ্রেনের মাথা ব্যথার এমনই এক ভয়ঙ্কর রূপ যে এই অসহ্য যন্ত্রণার কথা ভাষায় প্রকাশ করা একপ্রকার অসম্ভব। মাইগ্রেনের ব্যথা একবার যদি শুরু হয় তাহলে গোটা দিনের কাজেও ব্যাঘাত ঘটতে পারে। মাইগ্রেনের ব্যাথা থেকে কারও কারও বমি হয়, কারও ঘাড়ে কাঁধে প্রচন্ড ব্যথা শুরু হয়। কোন কিছু দেখতে গেলেই চোখের ওপর চাপ পড়ে। মাইগ্রেন থেকে অনেক সময় প্রচন্ড গ্যাস অম্বলও হয়।
যাদের মাইগ্রেন আছে তারা খুব ভালোমতো জানেন, মাইগ্রেনের ব্যথা শুরু হলে আলো-শব্দ কোনো কিছুই সহ্য করা যায় না। অন্ধকার ঘরে লাইট সাউন্ড অফ রেখে শান্ত পরিবেশে ঘুমাতে পারলেই ধীরে ধীরে মাইগ্রেনের ব্যথা থেকে নিস্তার পাওয়া যায়। যদিও মাথা যন্ত্রণার তীব্রতা এতই বেশি থাকে যে শুরুতে ঘুমও আসতে চায় না।
https://youtu.be/Lrfrhq_IvfY?si=Q8fnuvLLUbitA_Va
বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই মাইগ্রেনের ব্যথা মাথার একটা অংশেই হয়ে থাকে। তবে এই ব্যথা একবার শুরু হলে তিনি আর কোনভাবেই কোনো কাজ করতে পারেন না, তাহলে ব্যথা আরও তীব্রতর হতে থাকে। শরীরও ক্লান্ত হয়ে যায়। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এই ব্যথায় ওষুধের মতো কাজ করে ঘুম। যদিও অনেক সময় ঘুমানোর পরেও মাইগ্রেনের ব্যথা পুরোপুরি সারে না। জানলে অবাক হবেন, এই মাইগ্রেনের ব্যথা তিন ঘন্টা থেকে তিন দিন অর্থাৎ ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত থাকতে পারে।
