>> মো. বেল্লাল হাওলাদার, স্টাফ রিপোর্টার
আমাদের দেশের প্রতিটি পেশাতে এমন কিছু মানুষের দেখা মেলে যারা নিজ কর্মগুণে নিজেকে তুলে নিয়েছেন এক অনন্য উচ্চতায়। তেমনি একজন দূরদর্শী, প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্ব রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি চেয়ারমানের দায়িত্ব পেয়ে বেশকিছু পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। এতে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন, এই বহুদর্শী প্রকৌশলী নন্দনজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়ে স্বপ্নিল ঢাকা নগর গড়তে পথ হবে সুগম ও সমৃদ্ধ। তাঁর সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নেতৃত্বে রাজধানী ঢাকার উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে স্বচ্ছ ও সফলভাবে। নন্দন সৌন্দর্য্যে এবার ভাসবে ঢাকার নগরী। তিনি এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন, নকশাবহির্ভূত ও অবৈধ ভবন নির্মাণ রোধে।
সম্প্রতি তিনি এক টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অনুমোদিত নকশা ছাড়া নির্মাণকারী ভবনগুলোর বিদ্যুৎ ও পানি সংযোগ বন্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি বেদখল হওয়া জমি উদ্ধার এবং দুর্নীতি দমনেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, "যেসব ভবন নির্মাণ চলমান রয়েছে কিন্তু নকশা লঙ্ঘন করছে, সেগুলোর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। আগে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হতো, কিন্তু এখন মিটার সিল করা হচ্ছে। পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকেও সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।" সদস্য থেকে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলাম দাবি করেন, এই পদক্ষেপের ফলে অনেক নির্মাণকারী রাজউকের কাছে সমাধান চাইতে আসছেন।
রাজউকের দুর্নীতি ও হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির কথা উল্লেখ করে চেয়ারম্যান বলেন, "ইতিমধ্যে কয়েকজন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত ও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা স্বচ্ছতা আনার চেষ্টা করছি।" এছাড়া, বেদখল হওয়া জমি উদ্ধারে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, "কাগজে-কলমে আমাদের জমি থাকলেও বাস্তবে অনেকটাই দখলে নেই। সেগুলো উদ্ধারের জন্য একটি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।"
রাজউকের ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) নিয়ে চলমান বিতর্কের সমাধানেও কাজ করছে সংস্থাটি। চেয়ারম্যান জানান, সংশ্লিষ্ট সকলের মতামত নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। এতে অনেকেই মনে করেন, নতুন চেয়ারম্যানের সততা ও দক্ষতায় রাজধানী ঢাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পসমূহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে নিরলসভাবে। এছাড়াও মানুষের জীবনযাত্রা সেবার মান বৃদ্ধি, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগ শক্ত হাতে দমন করতে সক্ষম হবেন তিনি।
