দেশের বরেণ্য নাট্যজন ও অভিনেতা মামুনুর রশীদের টাঙ্গাইল শহরের পলাশতলী এলাকার পৈতৃক বাড়িতে হানা দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাড়ির বারান্দার গ্রিলের তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে আলমারি ও ওয়্যারড্রোবের জিনিসপত্র তছনছ করা হয়। এ ঘটনায় সোমবার (১২ অক্টোবর) টাঙ্গাইল সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন মামুনুর রশীদের বোন আফিয়া খান।
আফিয়া খান বলেন, ‘আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। আমি ঘটনার দিন ঢাকায় ছিলাম। টাঙ্গাইলে ফিরেই থানায় গিয়েছি। আমার বাবা-মায়ের খুবই প্রিয় এই বাড়িটি। মানসিকভাবে আমি অসুস্থ হয়ে গেছি। আমার ভাই কথা বলেছেন ওসি সাহেবের সঙ্গে। আমাদের এখানে তিনটা স্টিলের আলমারি, একটা কাঠের ওয়ারড্রব আর একটি ফাইল ক্যাবিনেট। কী চুরি হয়েছে সেটা আমার বুঝতে সময় লাগবে। আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি।’ অভিনেতার এই বোন আরও বলেন, ‘অনেক ক্ষতি করেছে এরা আমাকে, অনেক। আমি ভিডিও পাঠালে দেখবেন।’
এ প্রসঙ্গে নাট্যজন মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ওরা (দুর্বৃত্তরা) আমার বাসার আলমারি, ফাইল ক্যাবিনেট, উল্টো-পাল্টা করে ভেঙে জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রেখেছে। আমার মা (প্রয়াত) থাকতেন ওখানে। চুরি হয়েছে শুনেছি, তবে আমার বোনেরা এখনও বের করতে পারছে না ঠিক কী কী চুরি হয়েছে। কী ছিল, কী নেই- সেটা বের করতে একটু সময় লাগবে।’
জেলা প্রতিনিধি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি গত শনিবারের (১০ অক্টোবর)। টাঙ্গাইল শহরের ময়মনসিংহ সড়কের পলাশতলী এলাকার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। কয়েক দিন আগে ঢাকায় যাওয়ার সময় আফিয়া খান তার পূর্বপরিচিত শফিকুর রহমানকে বাড়িটি দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান। শনিবার সকাল ৯টার দিকে শফিকুর বাড়িটি তালা দিয়ে বাইরে যান। তখন বাড়ির সব জিনিসপত্র ঠিকঠাক ছিল। পরে ওইদিন বিকেল পাঁচটার দিকে বাড়িতে ফিরে শফিকুর দেখেন, বারান্দার গ্রিলের তালা ভাঙা। তিনি কক্ষের ভেতরে ঢুকে মেঝেতে বিভিন্ন জিনিসপত্র ছড়ানো-ছিটানো অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তিনটি স্টিলের আলমারি ভাঙা এবং কাঠের একটি ওয়্যারড্রোব খোলা দেখতে পান। আলমারিগুলোতে ৯ ভাই-বোনের মূল্যবান জিনিসপত্র ছিল।
টাঙ্গাইল সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ভিক্টর ব্যানার্জী এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তার বোন আফিয়া খান বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ করেছেন।
