নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ও একটি ‘গুপ্ত দল’ যৌথভাবে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির নেতা রুহুল কবির রিজভী। তাঁর দাবি, পরাজিত রাজনৈতিক শক্তি ও ওই দলের বক্তব্য এবং কর্মকাণ্ডের মধ্যে মিল রয়েছে। অতীতের মতো এখনো বিএনপিকে লক্ষ্য করে নানা ধরনের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শান্তিনগরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ শেষে আয়োজিত সমাবেশে এসব কথা বলেন রিজভী। এ সময় তিনি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে এখন আরেকটি গুপ্ত দল যুক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সম্পর্ক থাকার প্রমাণ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
রিজভী বলেন, অতীতে আওয়ামী লীগ বিএনপির বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়েছে। বিএনপিকে জঙ্গিবাদে জড়িত রাজনৈতিক দল হিসেবে উপস্থাপন করা এবং দলটি ক্ষমতায় থাকলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা নিরাপদ থাকবেন না—এমন প্রচারও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, পরাজিত শক্তি ও নতুন করে আলোচনায় আসা দলটির আচরণে একই ধরনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেখিয়েছে, সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারে না। তবে এসব বক্তব্য ও অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা প্রসঙ্গেও কথা বলেন রিজভী। তাঁর দাবি, বিএনপির নেতাকর্মীরা দিনরাত কাজ করে বিভিন্ন পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহযোগিতা করেছেন। গত ১৭ থেকে ১৮ বছরের মধ্যে এবার সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রতিবেশী দেশ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও পূজার পরিবেশের প্রশংসা করেছেন বলে জানান এই নেতা।
সমাবেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রিজভী। তিনি বলেন, সরকার ও বিএনপির পক্ষ থেকে সমন্বিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শে তৈরি লিফলেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধের উপায় এবং আক্রান্ত হলে করণীয় সম্পর্কে জানানো হচ্ছে। এসব নির্দেশনা মানুষের সচেতনতা বাড়াতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সরকারি হাসপাতালে বিনা মূল্যে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত স্যালাইনের সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং দেশজুড়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সরকারের অর্থনৈতিক কর্মসূচি প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাঁর দাবি, পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণের মতো উদ্যোগের ফলে চলতি বছরেই দেশে দারিদ্র্যের হার আরও পাঁচ শতাংশ কমতে পারে। অর্থনীতিবিদদের বরাত দিয়ে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ, স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক চিকিৎসক রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল হক বাবুল, স্বেচ্ছাসেবাবিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপুসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যতথ্য পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।
-20261022074452.jpg&w=1440&q=75)