বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়াতে পারে- এমন জল্পনা-কল্পনায় বিশ্ববাজারে টানা তিন দিন স্বর্ণের দাম কমেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ডলারের নতুন সুদের হার কী নির্ধারণ করবে, তা জানার জন্য বিনিয়োগকারীরা এখন মার্কিন মূল্যস্ফীতির রিপোর্টের দিকে চোখ রাখছেন। খবর রয়টার্সের।
বুধবার বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ডের (প্রতি আউন্স স্বর্ণ) দাম ০ দশমিক ৩ শতাংশ কমে চার হাজার ১৪২ দশমিক ৮৫ ডলারে নেমে এসেছে।
ফরেক্স ডট কম-এর বাজার বিশ্লেষক ফাওয়াদ রাজাকজাদা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় ব্যবসায়ীরা বর্তমানে পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন। আজই যুক্তরাষ্ট্রের সিপিআই রিপোর্ট প্রকাশ হওয়ার কথা রয়েছে, যা মার্কিন ডলারের মান ও স্বর্ণসহ বৈশ্বিক পণ্যের দামে প্রভাব ফেলবে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে দুটি জাহাজে হামলা ও তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন কৌশলের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে সার্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, ডলারের উত্থান একটি নির্দিষ্ট সীমায় পৌঁছানোর পর স্বর্ণের বাজার আবারও ঘুরে দাঁড়াবে। বছরের শেষ নাগাদ প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম চার হাজার ৫০০ থেকে চার হাজার ৭০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষাকবচ হিসেবে স্বর্ণকে নিরাপদ বিনিয়োগ ধরা হলেও উচ্চ সুদের হারের সম্ভাবনা এই ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দেয়। নিউইয়র্ক ফেডের প্রেসিডেন্ট জন উইলিয়ামস জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে মার্কিন সেন্ট্রাল ব্যাংক চলতি বছর আরও একবার সুদের হার বাড়াতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে স্পট সিলভারের (রূপা) দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫১ ডলারে ঠেকেছে, প্লাটিনামের দাম ০ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে এবং প্যালাডিয়ামের দামে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।
