কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার আকবরনগর ও মিরারচর এলাকার আলোচিত সংঘর্ষে দুই প্রাণহানির ঘটনায় অভিযুক্ত এক নারী আসামি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর তাকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেওয়ার ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি সমাজের বর্তমান নৈতিক অবক্ষয় ও মূল্যবোধ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, একটি বাজারের নামকরণকে কেন্দ্র করে আকবরনগর ও মিরারচর এলাকার দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সামান্য এই বিরোধের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে দুটি তাজা প্রাণ ঝরে যায়। প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে দুটি পরিবার। ওই সংঘর্ষে জড়িত থাকার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হন এক নারী। সম্প্রতি আইনি প্রক্রিয়ায় তিনি জামিনে মুক্তি পান।
আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে ওই নারী এলাকায় ফেরার পর স্থানীয় কিছু মানুষ তাকে ফুলের মালা ও তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন। শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক—সব বয়সের মানুষের এই উল্লাস ও আনন্দের ছবি এবং ভিডিও মুহূর্তেই ফেসবুকের নিউজফিডে ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়, "যাকে দেখছেন তিনি বড় কোনো অস্কার অর্জন করেননি বা দেশের জন্য অসাধারণ কোনো কীর্তিও গড়েননি। অথচ দুই পরিবার দুজন মানুষকে হারাল, আর সেই ঝগড়ায় আটককৃত আসামি জামিনে মুক্তি পাওয়ায় এই উল্লাস! এভাবে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করা সমাজব্যবস্থা কীভাবে নিচ্ছে?
আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে আদালতে অভিযুক্ত ব্যক্তি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হয়েছেন। এটি কেবল মামলার বিচার চলাকালে আদালত কর্তৃক প্রদত্ত একটি আইনি অধিকার। বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মামলার সত্য-মিথ্যা নির্ধারিত হবে।
কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়টি না বুঝে বা উপেক্ষা করে অভিযুক্তকে যেভাবে বরণ করা হয়েছে, তা সমাজে নেতিবাচক বার্তা ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক সমাজ। সমালোচকদের প্রশ্ন—অপরাধ বা সংঘাতের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও কি তাহলে সমাজে বাহবা পাবেন? বিচারপ্রার্থী ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের কষ্টের কথা একবারও না ভেবে এমন উন্মাদনা সমাজকে কোন অন্ধকারের দিকে নিয়ে যাচ্ছে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
