দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | বিশেষ প্রতিনিধি প্রকাশিত: অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
দোকানের সব কাজ নিজ হাতে করার পাশাপাশি পুড়িসহ অন্য খাবার নিজেই তৈরি করেন। বয়স ৬০ পেরিয়েছে অনেক আগেই। ৪ দশক ধরে ডালপুরি আলুরচপ পেয়াজু ও গোলগল্লা বিক্রি করে আসছেন নিখিল দাস । আশেপাশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠাণের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের কাছে তিনি বাবু নামেই পরিচিত। তাঁর দোকানে পুরি পেঁয়াজু গোলগল্লা খেতে দ‚র দ‚রান্ত থেকেও আসেন অনেকে।
জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকায় সিটি পার্কের প্রবেশ পথের বিপরীতে ডালপুরি, পেঁয়াজু আলুরচপ ও গোলগল্লা বিক্রি করেন নিখিল দাস। কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পৈত্রিক নিবাস হলেও ছোট থাকতেই পিতার সঙ্গে চলে আসেন নারায়ণগঞ্জে। শহরের দেওভোগ এলাকায় আশির দশকে তিনি শুরু করেন পুড়ি, পেয়াজু, আলুরচপ ও গোলগল্লা বিক্রির কার্যক্রম।
প্রতিদিন ডালপুরি পেঁয়াজু আলুরচপ গোলগল্লা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করতে হয় নিখিলকে দোকানটির চারদিক খোলা। ওপরে একচালা টিনের শেড। এই ঝুপড়ি দোকান ঘিরেই তাঁর যত কর্মযজ্ঞ। দোকানটির আশপাশে ভিড় করেছেন নানা বয়সের নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। পাশের মার্কেটের ব্যবসায়ী কিংবা পার্কে ঘুরতে আসা লোকজনের কাছে নিখিলের হাতের তৈরী পুরি গোলগল্লা যেমন পছন্দের তেমনি পার্শ্ববর্তী চারুকলা ইনস্টিটিউট ও মর্গ্যান গার্লস স্কুলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কাছেও প্রিয় নিখিলের দোকানেতৈরী পুরি ও গোলগল্লাসহ পেয়াজু ও আলুরচপ। নিখিল দাসের দোকানটি প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চালু থাকে। সেখানে প্রতিদিনই প্রায় ৪-৫ কেজি ময়দা দিয়ে পুরি, চপ গোলগল্লা তৈরি করা হয়। এগুলোর প্রতিটির দাম পাঁচ টাকা। গরম-গরম পুরি-পিঁয়াজি গোলগল্লা টক দিয়ে খেতে নানা বয়সের মানুষের ভিড় লেগেই থাকে।
নিখিল দাস জানান, দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে তিনি এ পেশায় রয়েছেন। আট আনা থেকে বিক্রি শুরু করেন। শুরুর দিকে পেয়াজু ৫ পিছ ১ টাকা বিক্রি করতেন। আর পুরি চপ বেগুনি গোলগল্লা পঞ্চাশ পয়সা দরে বিক্রি করতেন। এখন পুড়ি চপ গোলগল্লা ৫ টাকা করে বিক্রি করেন। আগে জিনিসপত্রের দাম কম ছিল তখন লাভ বেশী হতো। এখন প্রতিদিন আড়াই থেকে তিন হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়। প্রতিদিন খরচ বাদ দিয়ে ১০০০ টাকার মতো থাকে। পুরি গোলগল্রা ব্যবসার শুরুতে ৭ হাজার টাকা দিয়ে এক খন্ড জমি ক্রয় করেছিলেন। কিন্তু কাগজপত্রে ভেজাল থাকায় সেটি ১২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। তার সংসারে স্ত্রী ও ২ মেয়ে। যার মধ্যে ১ মেয়েকে ডিগ্রী পাশ করিয়েছেন। ২ মেয়ের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন। সংসারের ঘানি টানতে গিয়ে জমি জমা করতে পারেননি। আয়ের একমাত্র উৎস থেকেই তিনি সংসার চালিয়ে আসছেন।
ক্রেতারা বলেন, নিখিলের হাতের তৈরী পুরি গোলগল্রা পেয়াজু আলুরচপ অনেক মজাদার। দ‚র দ‚রান্ত থেকেও অনেকে খেতে আসেন। এছাড়াও বাজারদর অনুযায়ী দামও কম। এত বয়স সত্বেও তিনি নিজের হাতেই সব কিছু তৈরী করে। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি এখানে অনেক সুনামের সঙ্গে ব্যবসা করে আসছেন।
