

সৌদি আরবের দাম্মামে অবস্থিত কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও আটজন। সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় বিমানবন্দর এলাকায় বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে সেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে।
তবে হামলার ধরন, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
৩০ দিনে ২ কোটি ১৬ লাখ মুসল্লি মসজিদে নববীতে
সৌদি আরবের মদিনায় অবস্থিত পবিত্র মসজিদে নববীতে গত সেপ্টেম্বরে মাত্র ৩০ দিনে ২ কোটি ১৬ লাখ ১৫ হাজার ৯৭৭ জন মুসল্লি ও দর্শনার্থী এসেছেন। সৌদি আরবের দুই পবিত্র মসজিদের সেবা ও তত্ত্বাবধানবিষয়ক জেনারেল অথরিটি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সৌদি গেজেটের। কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে ১৪ লাখ ৪৯ হাজার ৭৯১ জন দর্শনার্থী রওজা শরিফে নামাজ আদায় করেছেন। এ ছাড়া ৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৩০ জন দর্শনার্থী পথনির্দেশনা সেবা এবং ২ লাখ ৮৭ হাজার ৮৮৬ জন অতিথি সেবাকেন্দ্রের সেবা নিয়েছেন। দর্শনার্থীদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে এ সময়ে ৮১ হাজার ২৪৩ জন মসজিদে নববীর গ্রন্থাগার পরিদর্শন করেছেন। অন্যদিকে, মসজিদটির বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৮৬৭ জন অতিথি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব পরিসংখ্যান মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের উন্নত সেবা দেওয়ার চলমান প্রচেষ্টার প্রতিফলন। এর মাধ্যমে তাঁদের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি মসজিদে নববীতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নামাজ আদায়ের সুযোগ আরও সহজ করা হচ্ছে।

বাজারে ভ'য়াবহ হা'মলায় নি'হত কমপক্ষে ১৫৩
সুদানের বিতর্কিত আবিয়েই অঞ্চলের একটি বাজারে ভয়াবহ ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলার পর বাজারে ছড়িয়ে পড়া আগুনে পুড়ে গেছে বহু মানুষের মরদেহ। এখনো চলছে উদ্ধারকাজ, ফলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনায় ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন প্রায় ৮ হাজার মানুষ। দক্ষিণ সুদানের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। আবিয়েই অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকোল এনগর মঙ্গলবার রয়টার্সকে জানান, সোমবার বাজারে হামলার পর প্রথমে ৭৩ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। পরে এ সংখ্যা বেড়ে ১৫৩ হয়। তিনি বলেন, ‘আগুন এখনো জ্বলছে। তাই নিহতদের মরদেহ উদ্ধারের কাজও চলছে। পরিস্থিতি ভয়াবহ।’ আগুনে কয়েকজনের মরদেহ পুরোপুরি পুড়ে গেছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে ধারণ করা একটি ভিডিও যাচাই করেছে রয়টার্স। এতে পুড়ে যাওয়া ও দুমড়েমুচড়ে যাওয়া যানবাহন এবং ভবনের ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। বাসিন্দারা ক্ষয়ক্ষতি দেখার সময়ও একটি ভবনে আগুন জ্বলছিল। হামলার জন্য সুদানের সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছেন এনগর। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ দেননি তিনি। এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্স সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনজন কূটনীতিক, একজন ত্রাণকর্মী ও সংঘাতবিষয়ক একজন বিশেষজ্ঞ রয়টার্সকে জানিয়েছেন, হামলায় বাজারের একটি জ্বালানি ডিপোতে আঘাত হানা হয়। তাঁদের ভাষ্য, অতীতে ডিপোটি আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) সেনাদের জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহার করা হতো। এ বিষয়ে আরএসএফের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের মধ্যে ২০২৩ সালের এপ্রিলে যুদ্ধ শুরু হয়। তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও বিদেশি শক্তিও জড়িয়ে পড়েছে।

ক্ষমতা হারাচ্ছেন সৌদি যুবরাজ সালমান, নেপথ্যে কী?
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের জন্য বর্তমান সময়টিকে তার শাসনকালের অন্যতম কঠিন বা সবচেয়ে বাজে সময় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য ইকোনমিস্ট-এর একটি বিশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, সৌদি যুবরাজের মূল নীতি ও কৌশলগুলো একসঙ্গে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে, যা তার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলোর কার্যকারিতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রধান কয়েকটি কৌশলগত লক্ষ্য বর্তমানে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে স্পষ্ট সংকট তৈরি হয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে কেন্দ্র করে। ইয়েমেনে সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে যে ফল পাওয়ার প্রত্যাশা করা হয়েছিল, তা অর্জিত হয়নি। উল্টো চলমান উত্তেজনার কারণে সৌদি আরবের নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নতুন করে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। এছাড়া পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো দেশের সঙ্গে নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তি বা অন্যান্য উপসাগরীয় রাষ্ট্রগুলোর কূটনৈতিক সংহতি থাকলেও সামরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সীমিত সহায়তাই পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, সৌদি আরবকে অর্থনৈতিকভাবে বদলে দেওয়ার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ‘ভিশন ৩০৩০’ বা অর্থনৈতিক রূপান্তর এজেন্ডাও গুরুতর চাপের মুখে রয়েছে। তহবিলের সংকট, বড় বড় প্রকল্পের কাজ বিলম্বিত হওয়া এবং নিরাপত্তার জন্য বাজেট পুনঃবণ্টনের প্রয়োজনীয়তা এই অর্থনৈতিক পরিকল্পনাকে মারাত্মক পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা হুমকি অব্যাহত থাকলে দেশটিতে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হতে পারে এবং মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে, ভূরাজনৈতিক এবং অভ্যন্তরীণ উভয় ফ্রন্টেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এক জটিল সময় পার করতে হচ্ছে। সামরিক নিরাপত্তা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক বৈচিত্র্য আনার এই যুগপৎ প্রচেষ্টায় বিঘ্ন ঘটায় তার নীতিগুলোর ভবিষ্যৎ সাফল্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা আলোচনা ও পর্যালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

পাল্টে যাবে মধ্যপ্রাচ্যের গতি-প্রকৃতি, গুরুত্ব হারাবে হরমুজ প্রণালি
মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্যের চিত্র আগামী পাঁচ বছরে পুরোপুরি বদলে যেতে পারে। বিকল্প তেলবাহী পাইপলাইন, সমুদ্রবন্দর ও পণ্য পরিবহনের নতুন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির ওপর উপসাগরীয় দেশগুলোর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসতে পারে। এমন পূর্বাভাস দিয়েছেন এইচএসবিসি গ্রুপের প্রধান নির্বাহী জর্জেস এলহেদারি। খবর গালফ নিউজের। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুবাইয়ে এইচএসবিসির ফিউচার ফোরামে বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে বিকল্প পরিবহনপথ তৈরির উদ্যোগ আরও গতি পেয়েছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে হরমুজ প্রণালি হয়তো অপ্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে এটি সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে তার পূর্বাভাস, নিশ্চিত কোনো সময়সীমা নয়। বর্তমানে বিশ্বে মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হয়। সংঘাতের কারণে এই নৌপথে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের দুর্বলতা সামনে এসেছে। বিকল্প পথ তৈরিতে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশটির ইস্ট ওয়েস্ট পাইপলাইন দিয়ে তেল লোহিত সাগরের উপকূলীয় বন্দরে নেওয়া যায়। ফলে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানির সুযোগ তৈরি হয়। সৌদি আরব আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে পাইপলাইনটির দৈনিক পরিবহনক্ষমতা ৭০ লাখ ব্যারেল থেকে বাড়িয়ে এক কোটি ব্যারেল করার পরিকল্পনা করছে। ইরাকও সিরিয়া হয়ে ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তেল পরিবহনের পাইপলাইন পুনরুজ্জীবিত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে। অন্যদিকে, কুয়েত মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে তেল সংরক্ষণের স্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতও বিকল্প পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণ করছে। ফুজাইরাহ ও খোরফাক্কান বন্দর দিয়ে পণ্য পরিবহন বাড়ানোর পাশাপাশি ট্রাক, রেল ও আকাশপথে পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। তবে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলেও হরমুজ প্রণালির পুরো বাণিজ্য অন্য পথে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিকল্প অবকাঠামোর সক্ষমতা, নির্মাণের সময়সীমা ও বিনিয়োগের ওপর নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ।

ফ্রান্সে বিক্ষোভকারীদের নতুন স্লোগান ‘বিসমিল্লাহ’, যেভাবে উৎপত্তি
গত সপ্তাহে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের সমর্থনে রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ । এ সময় অনেকের হাতে থাকা কার্ডবোর্ডের প্ল্যাকার্ডে দেখা যায় একটি স্লোগান, ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’। আরবি শব্দ ‘বিসমিল্লাহ’ অর্থ ‘আল্লাহর নামে’। আর ফরাসি বাক্যাংশ ‘সে লে তেনেব্র’ অর্থ ‘এটি অন্ধকার’। এ দুইয়ের মিশেলে তৈরি হয়েছে স্লোগানটি। বাক্যটির অর্থ আপাতদৃষ্টিতে অস্পষ্ট মনে হতে পারে। তবে এর আক্ষরিক অর্থের চেয়ে তাৎপর্য অনেক বেশি। গত মাসে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধার অভাবের প্রতিবাদে তরুণদের আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকেই এটি প্রজন্মগত ব্যবধানের প্রতীকে পরিণত হয়েছে। এই বিক্ষোভই পরে ব্যাপক অস্থিরতায় রূপ নেয়। কোথা থেকে এ স্লোগানের উৎপত্তি ধারণা করা হচ্ছে, স্ন্যাপচ্যাটে প্রকাশিত একটি বার্তা থেকেই স্লোগানটির সূত্রপাত। ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের আয়োজকদের একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপে প্রবেশের চেষ্টা করছিলেন এমন এক ব্যক্তি বার্তাটি পাঠান। বার্তার শুরুতে লেখা ছিল ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’, যা ফ্রান্সের তরুণদের মধ্যে প্রচলিত আরবি ও ফরাসি ভাষার মিশ্র কথ্যরীতির অনুকরণ বলে মনে হয়। এরপর ওই ব্যক্তি লেখেন, ‘আমরা সবকিছু ভেঙে ফেলব।’ একই ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন প্রোফাইল ব্যবহার করে একাধিকবার বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন বলে ধারণা করা হয়। এসব প্রোফাইলে মামাদু ও আবদেল্লাহর মতো নাম এবং আলজেরিয়ার পতাকার ইমোজি দেখা গিয়েছিল। বার্তাগুলোর ভাষা হাস্যকর মনে হওয়ায় স্ন্যাপচ্যাটের অন্য ব্যবহারকারীরা সেগুলোর স্ক্রিনশট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। তবে বার্তাগুলোর প্রকৃত উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এরপর কী ঘটেছিল অনেক তরুণের সন্দেহ, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অনুপ্রবেশের উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাই হয়তো এসব বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তাদের ধারণা, তরুণদের কথাবার্তার ধরন অনুকরণ করতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা হাস্যকরভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। এরপর বিক্ষোভকারীরা ব্যঙ্গাত্মক স্লোগান হিসেবে ‘বিসমিল্লাহ, সে লে তেনেব্র’ গ্রহণ করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দমানোর প্রচেষ্টায় নিয়োজিত কর্তৃপক্ষকে উপহাস করা। এখন স্লোগানটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বর্ণগত সংখ্যালঘুদের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের টানাপোড়েন এতে প্রতিফলিত হয়েছে। ফ্রান্সের সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের সন্তান, কৃষ্ণাঙ্গ ও আরব বংশোদ্ভূত ফরাসিরা দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হওয়ার অভিযোগ করে আসছেন। তাদের মতে, আলোচিত বার্তাগুলো কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদের ভুল বোঝা এবং তাদের সম্পর্কে পূর্বধারণা পোষণের বিষয়টিও তুলে ধরে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি স্পষ্ট করেনি যে তাদের কোনো এজেন্ট এই শব্দগুচ্ছ ব্যবহার করেছিলেন কি না। তবে মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে, বেআইনি কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তদন্তকারীরা কখনো কখনো অনলাইনে ছদ্মপরিচয় ব্যবহার করেন। মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘এই প্রেক্ষাপটে তদন্তকারীরা ছদ্মনাম ব্যবহার করতে পারেন, যাতে অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা যায়। সেই সঙ্গে তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।’ কেন স্লোগানটি এত আলোড়ন তুলেছে শিক্ষার্থী বিক্ষোভকারীদের কাছে স্লোগানটির অস্বাভাবিক ভাষা তাদের আন্দোলন এবং সরকারের অবস্থানের মধ্যে প্রজন্মগত ব্যবধানকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাদের আন্দোলনের পেছনের বাস্তবতা ও তরুণদের ভাষা—দুটিই কর্তৃপক্ষ যথাযথভাবে বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে। ফ্রান্সের একটি বিশিষ্ট ছাত্র সংগঠনের মুখপাত্র সাবরিন খারবাখ বলেন, ‘কোনো তরুণ এভাবে কথা বলে না।’ তার ভাষ্য, তরুণেরা এই বাক্যকে নিজেদের মতো করে গ্রহণ করেছেন। এর মাধ্যমে তারা বোঝাতে চান, তাদের আন্দোলনে নজরদারি ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা তাদের চোখ এড়ায় না। একই সঙ্গে সব বাধা সত্ত্বেও নিজেদের সংগঠিত করার সক্ষমতাও তারা তুলে ধরতে চান। বোর্দো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী সাদানি সাবাদি বলেন, স্ন্যাপচ্যাটের বার্তাগুলোতে একধরনের পূর্বধারণা প্রকাশ পেয়েছে। তারা মনে করেন, যারা অবরোধ সৃষ্টি করছে বা সবকিছু ভাঙচুর করতে চাইছে, তারা নির্দিষ্ট একটি গোষ্ঠীর মানুষ।


