একসময় ত্বকের ছোট ছোট বাদামি দাগ ঢাকতে ব্যস্ত থাকতেন অনেকে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে সৌন্দর্যের সংজ্ঞা। এখন ফ্রিকেলস বা ত্বকের ছোট ছোট ছোপ ছোপ দাগই হয়ে উঠেছে স্বাভাবিক সৌন্দর্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। বিশ্বজুড়ে ফ্যাশন, মডেলিং ও মেকআপের জগতে বাড়ছে এর জনপ্রিয়তা। এমনকি যাঁদের ত্বকে প্রাকৃতিকভাবে ফ্রিকেলস নেই, তাঁরাও মেকআপের সাহায্যে তৈরি করছেন কৃত্রিম ফ্রিকেলস।
ফ্রিকেলস কী?
ফ্রিকেলস হলো ত্বকে মেলানিনের বণ্টন ও উৎপাদনের পরিবর্তনের কারণে তৈরি হওয়া ছোট ছোট বাদামি, তামাটে বা লালচে দাগ। সাধারণত মুখ, নাক, গাল, ঘাড়, বুক, বাহু ও পিঠে এগুলো বেশি দেখা যায়। বংশগত বৈশিষ্ট্য এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ ফ্রিকেলস তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ফ্রিকেলস সাধারণত ক্ষতিকর নয়। তবে তিল বা ত্বকের অন্যান্য দাগের সঙ্গে এর পার্থক্য রয়েছে। তাই কোনো দাগের রং, আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন দেখা দিলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
ফ্রিকেলসের ধরন:
ফ্রিকেলসের পরিচিত ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে এফিলাইডিস ও লেন্টিজিন। এফিলাইডিস সাধারণত ছোট বয়সে দেখা যায় এবং গ্রীষ্মে গাঢ় হলেও শীতকালে হালকা হতে পারে। অন্যদিকে, লেন্টিজিন দীর্ঘদিন সূর্যের আলোতে থাকার কারণে তৈরি হতে পারে এবং সাধারণত নিজে থেকে সহজে মিলিয়ে যায় না।
যত্ন নেবেন যেভাবে:
ফ্রিকেলসের দৃশ্যমানতা কমাতে চিকিৎসকের পরামর্শে রেটিনয়েড, নির্দিষ্ট উপাদানযুক্ত ক্রিম কিংবা লেজার চিকিৎসা নেওয়া যায়। তবে এসব পদ্ধতি সবার জন্য উপযোগী নয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
ত্বকের সুরক্ষায় প্রতিদিন ব্রড-স্পেকট্রাম সানস্ক্রিন ব্যবহার, টুপি ও রোদচশমা পরা এবং দীর্ঘ সময় কড়া রোদ এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
সৌন্দর্য মানেই নিখুঁত ত্বক নয়:
বর্তমান সৌন্দর্যচর্চায় প্রাকৃতিক ত্বকের বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ফ্রিকেলসও অনেকের কাছে হয়ে উঠেছে নিজস্ব সৌন্দর্য প্রকাশের মাধ্যম। তবে ফ্যাশনের জন্য কৃত্রিম ফ্রিকেলস তৈরি করা আর ত্বকের স্বাভাবিক দাগের যত্ন নেওয়া এক বিষয় নয়।
নিজের ত্বককে ভালোবাসা, তার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্যকে গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় পরিচর্যা করাই সুস্থ সৌন্দর্যচর্চার মূল কথা।
