নিজস্ব প্রতিবেদক · ১২ অক্টোবর, ২০২৬ ১:৪২ অপরাহ্ন
অকাট্য প্রমাণ ছাড়া কেবল পলাতক থাকার কারণে কাউকে সাজা দেওয়া যায় না বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। নির্দোষ ব্যক্তিও পুলিশি হয়রানি এড়াতে পালিয়ে থাকতে পারেন বলে রায়ে উল্লেখ করেছেন আদালত।
ঘুষ ও দুর্নীতির মামলায় সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে দেওয়া তিন বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে তাকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর একক বেঞ্চ এ রায় দেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশিত হয়।
রায়ে আদালত বলেন, দাপ্তরিক নথিতে অনিয়ম কিংবা ভুয়া নোটিশ দেওয়ার ঘটনা আসামির বিরুদ্ধে গভীর সন্দেহ তৈরি করতে পারে। তবে আইনের মানদণ্ডে গুরুতর সন্দেহ কখনোই সন্দেহাতীত প্রমাণের বিকল্প হতে পারে না।
মামলার নথি অনুযায়ী, নীল বরণ ত্রিপুরা ১৯৯১ সালের ৯ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসে রেকর্ড কিপার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে তাকে বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসে বদলি করা হয়।
দায়িত্ব পালনকালে কর্মকর্তা ও সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া আপিল নম্বর, নোটিশ ও রসিদ ইস্যু এবং বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল ছাতক থানায় মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে ২০২২ সালের ৩০ মার্চ সিলেটের বিশেষ জজ আদালত নীল বরণ ত্রিপুরাকে তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপিল করেন তিনি। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে খালাস দেন। সম্প্রতি প্রকাশিত রায়ে নিম্ন আদালতের সাজা বাতিলের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামির বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ করলেও অর্থ দেওয়ার নির্দিষ্ট তারিখ, সময়, স্থান কিংবা অর্থের সঠিক পরিমাণ আদালতে প্রমাণ করতে পারেননি। এজাহারে উল্লেখ করা অভিযোগের সঙ্গে আদালতে দেওয়া মৌখিক সাক্ষ্যেরও অসংগতি ছিল।
এ ছাড়া মামলার মূল সাক্ষীকে আদালতে হাজির করে জেরা করা হয়নি। মূল সাক্ষীর পরিবর্তে তদন্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে শোনা কথা উপস্থাপন করে তা সাক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করা যায় না বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, অপরাধের অভিযোগ থাকলেই কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা যায় না। অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করার দায়িত্ব রাষ্ট্রপক্ষের। কেবল পলাতক থাকার বিষয়টি কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার জন্য যথেষ্ট নয়।
হাইকোর্টের এ রায়ে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলা সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক এই কর্মীর বিরুদ্ধে করা মামলায় নিম্ন আদালতের দণ্ডাদেশ বাতিল হলো।
গুগলে আমাদের খবর পেতে
