Published on
:
2 min read
বাড়ি ফেরার একদিন আগে মাওবাদী সংগঠনের আত্মসমর্পণকারী এক নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যু। বুধবার ছত্তিসগড়ের দক্ষিণ বস্তার এলাকার বীজাপুরের এক পুনর্বাসন কেন্দ্রে নারসু বোড্ডু ওরফে নাইতি (২৬) নামে ওই নেতার গলায় ফাঁস দেওয়া অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়।
একনজরে
ছত্তিসগড়ের দক্ষিণ বস্তারের বীজাপুরে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা নারসু বোড্ডু ওরফে নাইতির (২৬) ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে।
বুধবার পুনর্বাসন কেন্দ্রের শৌচাগার থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয় বলে তাঁর ভাই সাকেত কুমার বোড্ডু জানিয়েছেন।
গত বছর আত্মসমর্পণ করেছিলেন নাইতি। চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রে থেকে বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
তাঁকে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল।
প্রশিক্ষণ শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল তাঁর। বাড়ি ফেরার সময় সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা অনুযায়ী টাকা ও মোবাইল ফোন দেওয়ার কথা ছিল।
পুলিশ সূত্রে খবর, চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে থেকে নাইতি বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন। মূলত চাষবাসের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল তাঁকে। কী কারণে তিনি আত্মঘাতী হয়েছে, তা নিশ্চিত জানাতে পারেনি পুলিশ। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বুধবারই ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করেছে ফরেনসিক দল।
সূত্রের খবর, নাইতিকে কৃষিকাজের পাশাপাশি মাছ চাষেরও প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। পুনর্বাসন কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফেরার সময় তাঁকে সরকারি প্রকল্পের ঘোষণা মতো টাকা, মোবাইল ফোনও দেওয়ার কথা ছিল। এই ঘটনায় প্রবল চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে ছত্তিসগড়ে। অনেকেই জানিয়েছেন, আত্মসমর্পণকারী কোনও মাওবাদী নেতার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে এই ধরনের মৃত্যু আগে হয়েছে কি না, তা তাঁরা মনে করতে পারছেন না।
পুলিশ জানিয়েছে, নাইতির বাড়ি গঙ্গালুর এলাকার কামকানারে। ওই এলাকা থেকে একসময় প্রচুর সংখ্যক বাসিন্দাকে মাওবাদীদের সংগঠনে নিয়োগ করা হয়েছিল। বোড্ডুর কাকিমাও তাঁর সঙ্গে প্রায় একসময়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। তিনি ওই পুনর্বাসন কেন্দ্রে ১২০ জন আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীর সঙ্গে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
পুলিশের একটি সূত্রের খবর, নাইতির বিরুদ্ধে গুরুতর কোনও ফৌজদারি মামলা ছিল না। তিনি কোনওদিন অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণও নেননি। গত বছর তিনি আত্মসমর্পণ করেন।
নাইতির ভাই সাকেত কুমার বোড্ডু তাঁর দাদার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, তাঁকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বুধবার জানানো হয়, পুনর্বাসন কেন্দ্রের শৌচাগার থেকে নাইতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। ওই কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিতে যাওয়া আত্মসমর্পণকারী মাওবাদীদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সাকেত।
FAQ
১. প্রশ্ন: আত্মসমর্পণকারী মাওবাদী নেতা নাইতির দেহ কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে?
উত্তর: ছত্তিসগড়ের দক্ষিণ বস্তারের বীজাপুরের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রের শৌচাগার থেকে নারসু বোড্ডু ওরফে নাইতির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে তাঁর ভাই জানিয়েছেন।
২. প্রশ্ন: মৃত নাইতির বয়স কত ছিল?
উত্তর: নাইতির বয়স ছিল ২৬ বছর।
৩. প্রশ্ন: কবে আত্মসমর্পণ করেছিলেন নাইতি?
উত্তর: পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, নাইতি গত বছর আত্মসমর্পণ করেছিলেন। চলতি বছরের ২৩ জুলাই থেকে তিনি পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
৪. প্রশ্ন: পুনর্বাসন কেন্দ্রে কী ধরনের প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন তিনি?
উত্তর: নাইতিকে মূলত কৃষিকাজের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল। পাশাপাশি, তাঁকে মাছ চাষের প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছিল।