১২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১২ মিনিট আগে
স্পোর্টস ডেস্ক
এল ক্লাসিকোর আগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে রিয়াল মাদ্রিদের শিবিরে। টানা চার ম্যাচে জয় পেয়েছে হোসে মরিনহোর দল। বিশেষ করে সেভিয়া ও আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে দুই ম্যাচেই চার গোল করে আক্রমণভাগের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে দলটি। তবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার বিপক্ষে সেই ছন্দ ধরে রাখা সহজ হবে না, তা ভালো করেই জানেন তারা।
কারণ, আগের দুই ম্যাচে যেভাবে খেলেছে রিয়াল, হান্সি ফ্লিকের দলের বিপক্ষে সেই কৌশল কতটা কাজে আসবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের অনুপস্থিতি। ফলে আজকের এল ক্লাসিকোয় মরিনহোর কৌশলগত সিদ্ধান্তগুলোই বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
রোববার ক্যাম্প ন্যুতে মৌসুমের প্রথম এল ক্লাসিকোয় মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। বাংলাদেশ সময় সোমবার রাত ২টায় শুরু হবে ম্যাচটি। লা লিগায় টানা নয় ম্যাচ জিতে ২৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। ২১ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রিয়াল। ফলে শিরোপার লড়াইয়ে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়টা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মরিনহোর দলের জন্য।
তবে শুধু প্রতিপক্ষের শক্তিই নয়, নিজেদের কিছু দুর্বলতাও ভাবাচ্ছে রিয়ালকে। সার্বিক বিবেচনায় বার্সেলোনার বিপক্ষে ৫টি কৌশলগত বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
১. বলের দখল ছাড়াও ছন্দ ধরে রাখতে পারবে রিয়াল?
সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুই ম্যাচে রিয়ালের পারফরম্যান্সে উন্নতির ছাপ ছিল স্পষ্ট। দুই ম্যাচেই ৬০ শতাংশের বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রেখেছিল মরিনহোর দল। মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করে আক্রমণ সাজিয়েছে, প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছে এবং সুযোগগুলোও কাজে লাগিয়েছে।
কিন্তু বার্সেলোনার বিপক্ষে একইভাবে খেলা কঠিন। ফ্লিকের দল বলের দখল ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে অভ্যস্ত। ফলে ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের পক্ষে ৬০ শতাংশের বেশি বলের দখল পাওয়া খুব একটা বাস্তবসম্মত নয়।
এখানেই মরিনহোর প্রথম পরীক্ষা। বল কম পেয়েও দলকে কার্যকর থাকতে হবে। প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি দ্রুত পাল্টা আক্রমণে উঠতে হবে। অর্থাৎ সাম্প্রতিক ম্যাচের উন্নতি শুধু বলের দখলের ওপর নির্ভরশীল কি না, সেটিও পরিষ্কার হয়ে যাবে এল ক্লাসিকোয়।
২. আর্দা গুলারকে কোথায় খেলাবেন মরিনহো?
চলতি মৌসুমে রিয়ালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার হয়ে উঠেছেন আর্দা গুলার। বিশেষ করে মাঝমাঠের কিছুটা নিচের দিকে খেললে তুর্কি এই তরুণের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পাচ্ছে দল।
ডান প্রান্তে কিংবা এমবাপের কাছাকাছি আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের ভূমিকায় খেলার চেয়ে মাঝমাঠের দ্বিতীয় স্তরে গুলার অনেক বেশি কার্যকর। সেখানে বলের সঙ্গে বেশি সম্পৃক্ত থাকতে পারেন তিনি। আক্রমণ তৈরির পাশাপাশি মাঝমাঠে সতীর্থদের সঙ্গেও ভালো বোঝাপড়া গড়ে ওঠে।
এই ভূমিকায় অরেলিয়েঁ চুয়ামেনি মূলত রক্ষণাত্মক দায়িত্ব সামলান। অন্যদিকে জুড বেলিংহাম স্বাধীনভাবে আক্রমণে উঠে গোলের সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেন। তাদের মাঝখানে থেকে খেলা পরিচালনা করেন গুলার।
বার্সেলোনার বিপক্ষেও এই নির্দেশনাতেই খেলার সম্ভাবনা বেশি। তবে মরিনহো অতিরিক্ত রক্ষণাত্মক পরিকল্পনা নিলে গুলারের অবস্থান বদলে যেতে পারে।
৩. ভালভার্দে খেলবেন কোন ভূমিকায়?
এল ক্লাসিকোর আগে মরিনহোর আরেকটি বড় সিদ্ধান্ত ফেদেরিকো ভালভার্দেকে নিয়ে। স্বাভাবিকভাবে মাঝমাঠের ফুটবলার হলেও চলতি মৌসুমে একাধিক ম্যাচে রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন উরুগুয়ের এই তারকা।
সেভিয়া ও লাইপজিগের বিপক্ষেও একই দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। তবে বার্সেলোনার বিপক্ষে তাকে রাইটব্যাকে খেলানো হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।
ডেনজেল ডামফ্রিসকে রাইটব্যাকে রেখে তার সামনে ডান প্রান্তে ভালভার্দেকে খেলানোর একটি সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ডান দিক দিয়ে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর পাশাপাশি দ্রুত আক্রমণে ওঠার সুবিধাও পেতে পারে রিয়াল।
অন্যদিকে ভালভার্দেকে মাঝমাঠে ফেরালে দল আরও একজন পরিশ্রমী ফুটবলার পাবে। তবে সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ওই ভূমিকায় খুব একটা কার্যকর হতে পারেননি তিনি।
ফলে ভালভার্দের অবস্থান শুধু একটি পজিশনের সিদ্ধান্ত নয়; এর ওপর নির্ভর করতে পারে রিয়ালের মাঝমাঠ ও ডান প্রান্তের পুরো কৌশল।
৪. বার্সেলোনার প্রেসিং সামলাবে কীভাবে?
রিয়ালের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে নিজেদের রক্ষণভাগ থেকে আক্রমণ গড়ে তোলা।
সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে উন্নতি করলেও প্রতিপক্ষ উঁচুতে উঠে চাপ দিলে রিয়ালের ডিফেন্ডারদের সমস্যায় পড়তে দেখা গেছে। বিশেষ করে নিজেদের অর্ধ থেকে ছোট ছোট পাসে বল বের করতে গিয়ে ভুল করার প্রবণতা পুরোপুরি কাটেনি।
অন্যদিকে ফ্লিকের বার্সেলোনার অন্যতম বড় শক্তি তাদের প্রেসিং। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে দ্রুত চাপ তৈরি করে বল কেড়ে নেওয়া এবং সেখান থেকেই গোলের সুযোগ তৈরি করতে দক্ষ কাতালানরা।
ফলে ক্যাম্প ন্যুতে রিয়ালের ডিফেন্ডার ও মিডফিল্ডারদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। নিজেদের ডি-বক্সের আশপাশে একটি ভুল পাস কিংবা বলের নিয়ন্ত্রণ হারানোই বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
মরিনহোর দল কতটা দক্ষতার সঙ্গে বার্সেলোনার প্রথম চাপ সামলে সামনে এগোতে পারে, সেটিও ম্যাচের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
৫. ভিনিসিয়ুস নেই, আক্রমণের বড় ভরসা দিয়োমান্দে
টানা ২১টি এল ক্লাসিকোয় খেলার পর এবার প্রথমবারের মতো এই দ্বৈরথে থাকছেন না ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। লা লিগায় চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার কারণে খেলতে পারবেন না ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার।
তবে তার অনুপস্থিতি রিয়ালের আক্রমণভাগে নতুন সম্ভাবনাও তৈরি করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ইয়ান দিয়োমান্দে খেলতে পারেন বাঁ প্রান্তে।
আইভরিকোস্টের এই উইঙ্গারের সবচেয়ে বড় শক্তি গতি ও ড্রিবলিং। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে দ্রুত আক্রমণে ওঠার দক্ষতাও রয়েছে তার। সর্বশেষ চার ম্যাচে তিন গোল করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
বার্সেলোনার বিপক্ষে দিয়োমান্দের এই গতিকে কাজে লাগাতে পারেন মরিনহো। বিশেষ করে রক্ষণ থেকে আক্রমণে ওঠার সময় বল দ্রুত বাঁ প্রান্তে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে তার।
এ ক্ষেত্রে এমবাপেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। ফরাসি ফরোয়ার্ড প্রায়ই মাঝখান থেকে বাঁ দিকে সরে গিয়ে আক্রমণে অংশ নেন। দিয়োমান্দের সঙ্গে তার সমন্বয় বার্সেলোনার রক্ষণের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
ফ্লিকের দলের ফুলব্যাকরা আক্রমণে অনেক ওপরে উঠে যান। ফলে তাদের পেছনে মাঝেমধ্যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। রিয়াল সেই জায়গাগুলো কাজে লাগাতে পারলে দ্রুত পাল্টা আক্রমণ থেকে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
