বিশ্বকাপের পর ফিফা টুর্নামেন্টগুলো বেসরকারিকরণের ব্যর্থ পরিকল্পনার পর থেকে তোপের মুখে ছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বড় বড় গণমাধ্যমগুলোও তাকে নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। সাম্প্রতিক সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে খবর প্রকাশ করেছিল দ্য টাইমস। এবার ফিফা প্রধানের কাছে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমটি।
গত ১৩ অক্টোবর একটি খবর প্রকাশ করে ব্রিটিশ সংবাদপত্র ফিফা প্রেসিডেন্টর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তোলে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অভিযোগ ছিল, এই সুইস কর্মকর্তা ফুটবলের শীর্ষ সংস্থার কাছ থেকে দ্বিতীয় বেতন গ্রহণ করছেন, যার মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় ২১ কোটি টাকার বেশি। আর এই বেতনের খবর কখনোই প্রকাশ্যে আনেনি ফিফা।
আরও পড়ুন
পরে দ্য টাইমস তাদের এই দাবি প্রত্যাহার করে নেয়। তারা বলেছে, ‘দ্বিতীয় বেতন কখনোই ছিল না।’ তারা ব্যাখ্যা দিয়েছে, ইনফান্তিনো যে খরচ ও প্রতিদান পান, সেটি সুইস আইন অনুযায়ী পারিশ্রমিক হিসেবে গণ্য হয় না এবং সেটি ফিফার বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।
ইনফান্তিনো মায়ামিতে অস্বাভাবিক কম দামে একটি সম্পত্তি কিনেছিলেন বলে দ্য টাইমস যে দাবি করেছিল, সেটিও তারা সংশোধন করেছে। সব শেষে তারা দুঃখ প্রকাশ করে বলেছে, ‘আমরা এই ধরনের ভুলগুলোর জন্য মিস্টার ইনফান্তিনো ও ফিফার কাছে ক্ষমা চাই।’
ফিফা জবাব দিতে সময়ক্ষেপণ করেনি। এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, তাদের সংস্থা ও এর প্রেসিডেন্টের সুনাম ক্ষুণ্ণ করতে যে অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে এটা তারই আরেক পর্ব। তারা বলেছে, ‘আগস্টে ফিফা যেমনটা বলেছিল, এটা স্পষ্ট যে কোনো একটি পক্ষ ফিফা ও তার প্রেসিডেন্টকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য সমন্বিত ও চলমান প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’
ফিফা গণমাধ্যমগুলোকে আরও সতর্ক থেকে যাচাই করে সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তারা প্রতিষ্ঠিত সত্যের ওপর ভিত্তি করে সমালোচনাকে স্বাগত জানানোর কথা জোর দিয়ে বলেছে।
তারা বলেছে, ‘গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানানো হবে। কিন্তু এই ধরনের সমালোচনা মিথ্যা দাবি প্রকাশের ন্যায্যতা প্রমাণ করে না।’
বিবৃতির শেষে ফিফা হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে। ফিফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে পুনর্নির্বাচনের প্রস্তুতির সময়কালে কোনো মিথ্যা কিংবা মানহানিকর খবর প্রকাশ হলে তারা এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থাকবে।
এফএইচএম
