ভারত সফরে অসাধারণ ফর্ম ধরে রেখে আরেকটি সেঞ্চুরিতে রেকর্ড গড়লেন শেই হোপ। সঙ্গে অন্যদের কয়েকটি কার্যকর ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেল আড়াইশর কাছাকাছি পুঁজি। বল হাতে আলো ছড়ালেন কিমো পল ও গুডাকেশ মোটি। সিরিজে আরেকবার সমতা ফেরাল ক্যারিবিয়ানরা।
চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ২৪ রানে। পাঁচ ম্যাচের সিরিজে এখন ২-২ সমতা। সিরিজের ফয়সালা হবে শেষ ম্যাচে।
হায়দরাবাদে বুধবার ২০ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ তোলে ২৪৭ রান। জবাবে ভারত যেতে পারে ২২৩ পর্যন্ত।
চার ওভারে ৪১ রান দিয়ে ৫ উইকেট শিকার করেন পল। ২৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার এই স্বাদ পেলেন ২৮ বছর বয়সি পেস বোলিং অলরাউন্ডার। ২০১৮ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন স্রেফ ১৫ রানে।
রান তাড়ায় ঝড়ো ফিফটিতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা সাঞ্জু স্যামসনকে নিজের প্রথম বলেই ফিরিয়ে শিকার ধরা শুরু করেন পল, একই ওভারে বিদায় করেন ইশান কিশানকেও। ১৯তম ওভারে তিনি নেন আরও তিনটি উইকেট।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয়ের ভিত গড়ে দিয়ে ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পান হোপ। চারটি চার ও ৯টি ছক্কায় ৫০ বলে অপরাজিত ১০২ রানের ইনিংস খেলেন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে এই সংস্করণে তিনটি সেঞ্চুরি করলেন তিনি, যার দুটিই চলতি সিরিজে, তিন ম্যাচের মধ্যে। আর এই সফরে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সাত ম্যাচে তার সেঞ্চুরি হলো চারটি।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ভালো শুরু পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কামিল পুরানের জায়গায় সিরিজে প্রথম খেলতে নামা জুয়েল অ্যান্ড্রু দ্বিতীয় ওভারে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন আর্শদিপ সিংকে। পরের ওভারে গতিময় বোলার মায়াঙ্ক ইয়াদাভকে ফ্রি হিটে ছক্কায় ওড়ান হোপ।
২৭ বলে ৫২ রানের উদ্বোধনী জুটি থামে পঞ্চম ওভারে। ১৬ বলে ২১ রান করে বিদায় নেন অ্যান্ড্রু।
হোপ এগিয়ে যান দারুণ ব্যাটিংয়ে। নেমে তিনে ঝড় তোলেন শিমরন হেটমায়ার। দুজনের জুটিতে ৫৮ রান আসে কেবল ২৪ বলে।
চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ১২ বলে ৩৩ রান করে ফেরেন হেটমায়ার। চারে নেমে ১৭ বলে ২৪ রান করেন রভম্যান পাওয়েল।
২৮ বলে পঞ্চাশে পা রাখা হোপ দলকে এগিয়ে নেন শেরফেন রাদারফোর্ডের সঙ্গে জুটি বেঁধে। দুজন মিলে ইনিংস সর্বোচ্চ অবিচ্ছিন্ন ৯১ রানের জুটি উপহার দেন স্রেফ ৪৩ বলে।
৯০ রান থেকে ইনিংসের শেষ দুই বলে দুটি ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন হোপ।
চারটি চার ও তিনটি ছক্কায় ২৬ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত থাকেন রাদারফোর্ড।
ভারতের হয়ে ওভারপ্রতি ১১ এর নিচে রান দিতে পারেন কেবল প্রিন্স ইয়াদাভ।
টি-টোয়েন্টিতে ২০৯ রানের বেশি তাড়া করে কখনও জিততে পারেনি ভারত। ফলে নতুন রেকর্ড গড়তে হতো তাদের।
সেই কঠিন চ্যালেঞ্জে আভিশেক শার্মাকে এক প্রান্তে দর্শক বানিয়ে রেখে ঝড় তোলেন স্যামসন। পাঁচটি চার ও চারটি ছক্কায় ১৮ বলে ফিফটি করেন তিনি চতুর্থ ওভারেই।
পরের ওভারে আক্রমণে এসেই স্যামসনের ঝড় থামান পল। ২৩ বলে ৫৬ রান করে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন কিপার-ব্যাটসম্যান। একটি ছক্কা মেরে ওই ওভারেই আউট হয়ে যান কিষান।
তখন ৪.৪ ওভারে ভারতের স্কোর ২ উইকেটে ৬৭ রান। বিস্ময়করভাবে তখন পর্যন্ত কেবল তিনটি বল খেলে আভিশেকের রান ২!
চারে নেমে টিকতে পারেননি অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। আভিশেক এ দিন সেভাবে ছন্দ পাননি কখনোই। ২৪ বলে ২৯ রান করে দ্বাদশ ওভারে মোটির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
পরের বলে নামান ধীরকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগান বাঁহাতি স্পিনার মোটি। উইকেটের পেছনে দারুণ ক্ষিপ্রতায় নামানকে স্টম্পিং করেন হোপ।
হ্যাটট্রিক ডেলিভারিতে এক রান নেন নিতিশ কুমার রেড্ডি। তার ও তিলাক ভার্মার জুটিতে বেঁচে থাকে ভারতের আশা।
ভারতের যখন ১৯ বলে প্রয়োজন ৪৮ রান, তখন তিলাককে (২৫ বলে ৪৩) ফিরিয়ে ৩২ বলে ৭০ রানের বিস্ফোরক জুটি ভাঙেন রোমারিও শেফার্ড। স্বাগতিকদের আশাও একরকম শেষ হয়ে যায় সেখানেই।
১৯তম ওভারে পলের প্রথম বলে ছক্কা মারেন নিতিশ। পরের বলেই তাকে (২০ বলে ৪১) ফিরিয়ে প্রতিশোধ নেন পল। পরের বলে প্রিন্স ইয়াদাভ এবং পঞ্চম বলে আকসার প্যাটেলকে ফিরিয়ে পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি।
১ উইকেট হাতে নিয়ে শেষ ওভারে ভারতের দরকার ছিল ৩৫ রান। শামার জোসেফের চতুর্থ বলের পর কাঁধের সমস্যায় ক্রিজ ছেড়ে যান আর্শদিপ। ম্যাচের সমাপ্তি সেখানেই।
আগামী শনিবার শেষ ম্যাচ হবে বেঙ্গালুরুতে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ওয়েস্ট ইন্ডিজ: ২০ ওভারে ২৪৭/৩ (হোপ ১০২*, অ্যান্ড্রু ২১, হেটমায়ার ৩৩, পাওয়েল ২৪, রাদারফোর্ড ৪৯*; মায়াঙ্ক ৪-০-৫২-০, আর্শদিপ ৪-০-৫২-১, প্রিন্স ৪-০-৩৬-১, আকসার ৪-০-৪৫-১, নামান ১-০-১৯-০, নিতিশ ৩-০-৩৯-০)
ভারত: ১৯.৩ ওভারে ২২৩ (স্যামসন ৫৬, আভিশেক ২৯, কিষান ৬, শ্রেয়াস ১৬, তিলাক ৪৩, নামান ০, নিতিশ ৪১, আকসার ৩, প্রিন্স ০, আর্শদিপ ৫ আহত অবসর, মায়াঙ্ক ০*; চেইস ৪-০-৪৩-০, শামার ২.৩-০-৪৭-০, শেফার্ড ৩-০-৩২-১, পল ৪-০-৪১-৫, স্পিঙ্গার ৪-০-৪০-১, মোটি ২-০-১৩-২)
ফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৪ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে প্রথম চারটির পর ২-২ সমতা
ম্যান অব দা ম্যাচ: শেই হোপ
