জনগণের সমস্যা, প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার কথা গণমাধ্যমের মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে পৌঁছায়। তাই জনদুর্ভোগ নিরসন, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে সাংবাদিকদের গঠনমূলক সমালোচনা ও পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উখিয়া প্রেস ক্লাবের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও নির্বাচন কমিশনের সদস্যদের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার আরো বলেন, প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়লে জনসেবা আরও গতিশীল হয়। উখিয়ার পর্যটন সম্ভাবনা কাজে লাগানো, মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে নিরাময় কেন্দ্র স্থাপন, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মত বিনিময়ে সভায় বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজার সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী, কক্সবাজার প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সিনিয়র সাংবাদিক শামসুল হক শারেক, উখিয়া প্রেসক্লাব কার্যকরী কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি সাইফুর রহিম, নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমদ, নির্বাহী সদস্য আমানুল হক বাবুল, সহকারী কমিশনার ভূমি আবু আব্দুল্লাহ, উপজেলা প্রকৌশলী তহিদুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এহসান উল্লাহ সিকদার, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার বদরুল আলম প্রমুখ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পান্না আক্তার বলেন, রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর অধ্যুষিত উখিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ উপজেলা। এখানে নানা ধরনের সমস্যা রয়েছে।
তিনি বলেন, 'আমার ভুল হতে পারে। কোনো সিদ্ধান্ত বা কাজে ভুলত্রুটি থাকলে আপনারা সমালোচনা করবেন। গঠনমূলক সমালোচনা অবশ্যই প্রয়োজন। এর মাধ্যমে প্রশাসনকে জবাবদিহির আওতায় আনা সম্ভব।'
সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় প্রশাসনের দায়িত্ববোধ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা আরও বাড়ায় উল্লেখ করে তিনি নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের উখিয়ার উন্নয়ন ও জনকল্যাণে প্রশাসনের সহযোগী হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, পর্যটন উন্নয়নে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েকটি পার্কের মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে কাজ চলছে। পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন আয়োজনের বিষয়েও চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। বিশেষ করে ৩৪ বিজিবি ও ৬৪ বিজিবিসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে সমন্বয় সভায় নিয়মিত আলোচনা হয়। এসব সভায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও অভিযানসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও বাহিনীগুলোর সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
উখিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জনবল ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অন্যান্য এলাকার তুলনায় উখিয়ায় জনবলসংকট বেশি বলে তাঁর মনে হয়েছে।
গণমাধ্যমকে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে উল্লেখ করে ইউএনও পান্না আক্তার বলেন, প্রশাসনের কার্যক্রম, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনসাধারণের সমস্যা ও সম্ভাবনা গণমাধ্যমে তুলে ধরা হলে সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম আরো গতিশীল হয়।
তিনি নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে জনস্বার্থে কাজ করতে চান তিনি। ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আরও পরিকল্পিতভাবে মতবিনিময় এবং বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রাখার আগ্রহও প্রকাশ করেন।
