মারধরের প্রতীকী ছবিছবি: X
Published on
:
1 min read
ধর্ম অবমাননার অভিযোগে এক যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত ফজলুল হক আমিনিকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। শনিবার গভীর রাতে যৌথ অভিযান চালিয়ে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। উল্লেখ্য, এই মামলায় আগেই মোক্তার হোসেন খান এবং আসাদুল ইসলাম মোল্লা নামে আরও দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৩ অক্টোবর। সাতক্ষীরার দেবহাটায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে (৩৮) পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ফজলুল হকের নেতৃত্বে স্থানীয় জামায়েত কর্মীরা ঘটনার নেপথ্যে ছিলেন বলে অভিযোগ। মারের চোটেই ওয়াহিদুজ্জামানের মৃত্যু হয় বলে দাবি পরিবারের। ঘটনার পরেই দেবহাটা থানায় মামলা দায়ের করেন মৃতের ভাই আব্দুল জলিল। আমিনিকে প্রধান অভিযুক্ত করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয় FIR-এ। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় ২০০ থেকে ২৫০ জনকেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সেই ঘটনার তদন্তে যৌথ অভিযানে নামে পুলিশ ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন। তার পরেই কৃষ্ণনগর থেকে ফজলুল হক আমিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা প্রধান অভিযুক্ত স্বীকার করে নিয়েছেন বলে দাবি দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহিন। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতেও রাজি হয়েছেন বলে দাবি পুলিশের। তাই তাঁকে আর হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন ওসি।
পুলিশের দাবি, হেফাজতে থাকাকালীন আমিন বলেন, ‘আইনের চোখে আমি অপরাধী। পিটিয়ে মারার উদ্দেশ্য ছিল না, দুর্ঘটনাবশত হয়ে গিয়েছে।’ অন্য দিকে, নিহত ওয়াহিদুজ্জামানের পরিবারের দাবি, তিনি মানসিক ভাবে অসুস্থ ছিলেন। স্ত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদের সময়ে তাঁর কিছু অসংলগ্ন কথায় কেউ ক্ষুব্ধ হয়ে থাকলে, আইনের পথে বিচার চাওয়া যেত। কিন্তু তাঁকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হলো কেন, সেই প্রশ্ন তুলেছে পরিবার।
