মহালছড়িতে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস পালিত
গ্রামীণ নারীদের অধিকার, মর্যাদা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে খাগড়াছড়ির মহালছড়িতে আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মহালছড়ি উপজেলার মুবাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের সম্মেলনকক্ষে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। ‘গ্রামীণ নারীদের অগ্রযাত্রা: নারীর ক্ষমতায়নেই গড়ি সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ প্রতিপাদ্যে তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থার এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের উদ্যোগে এবং নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ডের (সিইএফ) আওতায় এ আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি বেইজিং নারী সম্মেলনের ৩০ বছর পূর্তিও অনুষ্ঠানে গুরুত্ব পায়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুবাছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বাপ্পী খীসা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আলমগীর মাহমুদ, সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কাকলী খীসা, মহালছড়ি প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম, এম্পাওয়ারমেন্ট প্রকল্পের সিনিয়র মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন অফিসার স্মৃতি রঞ্জন ধামাই এবং উপজেলা কো-অর্ডিনেটর সোনিয়া দাস।
দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত র্যালিতে গ্রামীণ নারীদের অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে আলোচনা সভায় নারীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, কৃষি, খাদ্য উৎপাদন, পরিবার পরিচালনা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তাঁদের শ্রম ও অবদান অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ স্বীকৃতি পায় না। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে নারীদের কাজের মূল্যায়ন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং বৈষম্যহীন সামাজিক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তাঁরা আরও বলেন, গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠন সম্ভব নয়। নারীদের শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
আয়োজকেরা আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ ধরনের কর্মসূচি নারীদের অবদান সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও ক্ষমতায়নের পথ আরও সুগম করতে সহায়ক হবে।
