স্টাফ রিপোর্টার।।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে জমি সংক্রান্ত অনৈতিক সুবিধা এবং ১ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও ব্ল্যাকমেইলিংয়ের অভিযোগ উঠেছে একটি স্বার্থান্বেষী চক্রের বিরুদ্ধে। অন্যায় দাবির কাছে নতিস্বীকার না করায় একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সার্ভেয়ারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোলার একটি স্থানীয় পত্রিকা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এমন অভিযোগ করেন সার্ভেয়ার ফিরোজের স্ত্রী সীমা আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ঢাকার একটি প্রভাবশালী গ্রুপ বোরহানউদ্দিনের একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফিলিং স্টেশন স্থাপনের লক্ষ্যে জমি সংক্রান্ত কাজের জন্য আসে। উক্ত স্থানে তাদের ৩২ শতাংশ জমির বৈধ কাগজপত্র থাকলেও তারা বেআইনিভাবে ৫২ শতাংশ জমি দখলের অপচেষ্টা চালায়। এই অনৈতিক কাজে সহায়তা করার জন্য তারা এক মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বোরহানউদ্দিন ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার ফিরোজের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু সার্ভেয়ার ফিরোজ সরকারি নিয়ম-কানুন ও আইনি সীমানার বাইরে গিয়ে কোনো অতিরিক্ত জমি বৈধ সাব্যস্ত করতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানান।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, অনৈতিক সুবিধা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে উক্ত চক্রটি পরিকল্পিতভাবে গোপনে ও অসদুপায়ে একটি বিভ্রান্তিকর ভিডিও ফুটেজ ধারণ করে। বিষয়টি জানাজানি হলে আজ থেকে প্রায় চার-পাঁচ মাস আগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রবীণ সাংবাদিক ও স্থানীয় সালিশকারীদের উপস্থিতিতে এক শালিস বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে চক্রটি নিজেদের ভুল স্বীকার করায় বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
সংবাদ সম্মেলনে সীমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস নীরব থাকার পর গত এক সপ্তাহ ধরে স্বার্থান্বেষী চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা সরাসরি হুমকি দিয়ে জানায়— ‘তাদের দাবি অনুযায়ী নগদ ১ লাখ টাকা না দিলে ওই পুরনো বিভ্রান্তিকর ভিডিও মিডিয়াতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।’ কিন্তু এই অন্যায় চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের কাছে নতিস্বীকার না করায়, চক্রটি একটি অনলাইন মিডিয়ায় সম্পূর্ণ একপাক্ষিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তথ্য সরবরাহ করে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করায়।
সংবাদ সম্মেলন থেকে উক্ত অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানানো হয়। একইসাথে একটি অসাধু চক্র জমি দখলের উদ্দেশ্যে ব্যর্থ হয়ে কীভাবে ব্ল্যাকমেইলিং ও চাঁদাবাজি চালাচ্ছে, সে বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনি ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানানো হয়। ইতিমধ্যে এই চক্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।