কোচের সঙ্গে মনোমালিন্যের জেরে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনায় শাস্তির মুখে পড়েছেন পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা ও ২৫৫ ইউরো জরিমানা করেছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৫ হাজার ৩০০ টাকা। ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি ভঙ্গের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিল এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়। তবে নিষেধাজ্ঞাটি ঠিক কোন কোন ম্যাচ বা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে বিবৃতিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি মাসের শুরুর দিকে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে। ওই ম্যাচে বেঞ্চে বসে থাকতে হয় রোনালদোকে। পরে পর্তুগালের কোচ জর্জ জেসুস তাঁর ভূমিকা নিয়ে দুবার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা রক্ষা করেননি বলে অভিযোগ করেন এই তারকা ফুটবলার। এ নিয়ে অসন্তোষের জেরে ডেনমার্কের বিপক্ষে নেশন্স লিগের ম্যাচের আগেই কোপেনহেগেনে জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান তিনি।
তবে রোনালদোর সঙ্গে কোনো সমঝোতার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন কোচ জর্জ জেসুস। একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরার পথ বন্ধ হয়ে যায়নি।
এদিকে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচের পর সমর্থকদের অভিবাদন না জানানো এবং সতীর্থদের রেখে চলে আসার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন রোনালদো। নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, এ ঘটনায় যে শাস্তিই দেওয়া হোক না কেন, তা মেনে নিয়ে আবারও জাতীয় দলে ফেরার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন তিনি।
পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের ডিসিপ্লিনারি কাউন্সিলের ভাষ্য অনুযায়ী, রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবে ফেডারেশনের শৃঙ্খলাবিধি লঙ্ঘন করেছেন। তবে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে আগে থেকে পার করা অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার সময় গণনা করা হবে কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।
অন্যদিকে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি হলে ফেডারেশনের সবাই রোনালদোকে আবারও জাতীয় দলে দেখতে চান। আগামী ১৫ নভেম্বর ডেনমার্কের বিপক্ষে পর্তুগালের পরবর্তী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য না থাকায় ওই ম্যাচে রোনালদোর অংশগ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
