নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের শার্শা উপজেলায় কায়বা ইউনিয়নে পরকীয়া সম্পর্কের জেরে লাইভে এসে চম্পা বেগম (২৮) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের প্রলোভনে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন ও অর্থ আত্মসাতের পর বিয়ে করতে অস্বীকার করায় তিনি এই চরম পথ বেছে নেন। এ ঘটনায় শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হকের বিরুদ্ধে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহত চম্পা বেগম কায়বা ইউনিয়নের মালয়েশিয়া প্রবাসী মিন্টু রহমানের স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন।
স্থানীয় ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে চম্পা বেগম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে কীটনাশক সেবন করেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়। স্বজনদের অভিযোগ, ভবানীপুর গ্রামের সালেহ উদ্দিনের ছেলে স্কুলশিক্ষক কবিরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে চম্পা বেগমকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এ ছাড়া প্রবাস থেকে তাঁর স্বামীর পাঠানো বিপুল পরিমাণ অর্থও কবিরুল হাতিয়ে নেন। সম্প্রতি চম্পা বেগম বিয়ের দাবি জানালে কবিরুল তাঁকে প্রত্যাখ্যান করেন। যার জেরে ক্ষোভ ও অভিমানে চম্পা বেগম আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার পরপরই শার্শা থানার ওসি শামিনুল হকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, ঘটনার পর ওসি একটি স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের যোগসাজশে অভিযুক্ত কবিরুলের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেন এবং ভোর ৫টা পর্যন্ত দফায় দফায় বৈঠক করে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। তবে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলামের তীব্র আপত্তির মুখে সে চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে রোববার দুপুরে পুলিশ এজাহার গ্রহণ করতে বাধ্য হয়।
নিহতের চাচা শ্বশুর শরফত আলী আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের ছেলে মিন্টু দীর্ঘদিন বিদেশে থাকে। শিক্ষক কবিরুল প্রলোভন দেখিয়ে চম্পা বেগমের সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং আমাদের ছেলের সব টাকা আত্মসাৎ করে। শেষে বিয়ে না করায় আমাদের বৌমা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়। আমরা এই প্রতারক কবিরুলের সঠিক বিচার চাই। অপর চাচা শ্বশুর আরিফ বিল্লাহও অভিযুক্ত কবিরুলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিষয়টি নিয়ে কায়বা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম জানান, স্কুলশিক্ষক কবিরুলের কারণে চম্পা বেগম আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতিসহ একটি কুচক্রী মহল ওসির সহায়তায় টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পাঁয়তারা করছিল। আমি বাধা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। দুপুরে আমি নিজে উপস্থিত থেকে থানায় মামলা দায়ের করিয়েছি। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক কবিরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিনুল হক। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অর্থের বিনিময়ে বিষয় ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। রাতে নিহতের পক্ষে কে বাদী হবেন—তা নির্ধারণ করতেই কিছুটা সময় লেগেছে, যে কারণে মামলা গ্রহণে বিলম্ব হয়। এখানে কোনো চাপ বা লেনদেনের ঘটনা ঘটেনি। তিনি আরও জানান, আত্মহত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ অভিযুক্ত আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে।
এদিকে ময়নাতদন্তের জন্য চম্পা বেগমের মরদেহ যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত গৃহবধূর ভাইয়ের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।
