ছবিঃ সংগৃহীত
অনূর্ধ্ব-১৮ স্কুল ফুটবল বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বেনিন। চীনের সুজৌ শহরে অনুষ্ঠিত ৮০ মিনিটের ম্যাচে ভারতকে ২৭-০ গোলে হারিয়ে রীতিমতো গোল উৎসব করেছে আফ্রিকার তরুণ ফুটবলাররা। আন্তর্জাতিক স্কুল ফুটবলের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে এই ফল।
মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বেনিন। প্রথমার্ধে শুরু হওয়া গোলের ধারা শেষ বাঁশি বাজার আগপর্যন্ত অব্যাহত ছিল। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে কার্যত দিশেহারা করে একের পর এক গোল আদায় করে নেয় দলটি। অন্যদিকে, পুরো ম্যাচে বেনিনের আক্রমণ সামাল দিতে হিমশিম খেয়েছে ভারতীয় দল।
বেনিনের হয়ে জন ইথান হুন্তিনমে, ফ্রাঁসোয়া আদিসা ও ওসভালদো সেমেভো লোকো প্রত্যেকে চারটি করে গোল করেন। এ ছাড়া ইজুদিন বুকারি করেন হ্যাটট্রিক। ভারতীয় দলের দুটি আত্মঘাতী গোলও ব্যবধান বাড়াতে ভূমিকা রাখে। সব মিলিয়ে ম্যাচজুড়ে বেনিনের একচ্ছত্র আধিপত্য ছিল স্পষ্ট।
চলতি প্রতিযোগিতায় শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বেনিন। নিজেদের প্রথম ম্যাচে কাতারকে ৭-০ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল দলটি। ভারতের বিপক্ষে ২৭ গোলের বিশাল জয়ের পর দুই ম্যাচে তাদের মোট গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত প্রতিপক্ষের কাছে একটিও গোল হজম করেনি তারা।
টানা দুই ম্যাচে জয়ের সুবাদে ‘বি’ গ্রুপ থেকে শেষ ষোলোতে জায়গা নিশ্চিত করেছে বেনিন। তবে গ্রুপসেরা হওয়ার লড়াই এখনো বাকি। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে চীনের দ্বিতীয় দলের মুখোমুখি হবে দলটি। দুই দলই নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয় পাওয়ায় শেষ ম্যাচের ফলের ওপর নির্ভর করছে গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণ।
ভারতের বিপক্ষে এই বড় জয় বেনিনের তরুণ খেলোয়াড়দের আক্রমণাত্মক সামর্থ্য ও গোল করার দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। কাতারের বিপক্ষে সাত গোলের পর ভারতের জালে ২৭ গোল করার মধ্য দিয়ে দলটি নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। টুর্নামেন্টের পরবর্তী পর্বে এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে বেনিনকে কঠিন প্রতিপক্ষ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
অন্যদিকে, ভারতের জন্য ম্যাচটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এত বড় ব্যবধানে হারের পর দলটির রক্ষণভাগ ও সামগ্রিক খেলার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। তবে প্রতিযোগিতার বাকি অংশে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ কাজে লাগানোই হবে ভারতীয় দলের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
বেনিনের সামনে এখন গ্রুপের শেষ ম্যাচে জয় ধরে রেখে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করার সুযোগ। দুই ম্যাচে ৩৪ গোল এবং কোনো গোল হজম না করার রেকর্ড নিয়ে দলটি পরবর্তী লড়াইয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।
মাতৃভূমির খবর
-20261021135942.jpg&w=1440&q=75)
