ইস্ট বেকারের ব্রেডে ব্যবহৃত প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত মানের মধ্যে পেয়েছে রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। অন্যদিকে, আদালতের নির্দেশে প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট ব্যাচের কয়েকটি খাদ্যপণ্যের বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশনা শর্তসাপেক্ষে প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)।
ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রিজারভেটিভসহ অন্যান্য উপাদানের মাত্রা অনুমোদিত সীমার মধ্যে রাখা এবং নির্ধারিত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে ইস্ট বেকারের পণ্য বিপণনে এখন বাধা নেই।
বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) আলাউদ্দিন হোসেন বলেন, ইস্ট বেকারের ব্রেডের নমুনা পরীক্ষা করে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের মাত্রা নির্ধারিত সীমার অনেক নিচে পাওয়া গেছে। তিনি জানান, ঢাকা ও আশপাশের এলাকা থেকে চারটি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। ব্রেডে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের নির্ধারিত সর্বোচ্চ মাত্রা প্রতি কেজিতে ৫ গ্রাম। পরীক্ষায় চারটি নমুনায় যথাক্রমে ২ দশমিক ৬২, ২ দশমিক ৫৩, ২ দশমিক ৯৯ ও ২ দশমিক ৬৭ গ্রাম পাওয়া গেছে।
বিএসটিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, পরীক্ষিত নমুনাগুলোতে প্রিজারভেটিভের মাত্রা নির্ধারিত সীমার মধ্যে রয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার এই ফলাফলে নমুনাগুলোতে ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটের মাত্রা নিয়ে উদ্বেগের কারণ পাওয়া যায়নি। এর আগে, ‘মাত্রাতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ’ থাকার অভিযোগে গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে ইস্ট বেকারের দুটি প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ব্যাচের দুটি খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহার এবং বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয় বিএফএসএ।
পণ্য দুটি হলো ইস্ট কেক ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেডের ‘ইস্ট কেক পুর পিঠা জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’ এবং ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ‘ইস্ট বেকার স্লাইস ব্রেড মিল্ক জ্যাম ফিল্ড (ইনট্যাক্ট)’। বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর ইস্ট বেকার বিভিন্ন স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পণ্যের নমুনা পরীক্ষা করায়। পরে পরীক্ষার ফলাফল সংযুক্ত করে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আবেদন করে প্রতিষ্ঠানটি।
ঢাকার জেলা খাদ্য নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, আদালতের নির্দেশে নির্দিষ্ট ব্যাচের পণ্য প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছিল, যা করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যগুলোর বিপণন বন্ধ রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পর নির্ধারিত শর্তে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ২০২৬ সালের ১১ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চিঠির মাধ্যমে শর্তসাপেক্ষে পণ্যগুলোর বিপণন পুনরায় চালুর অনুমতি দেওয়া হয়।
ইস্ট বেকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভোক্তার নিরাপত্তা, পণ্যের মান ও গুণগত নিশ্চয়তাকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের ব্রেডের নমুনা বিএসটিআই, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) ইনস্টিটিউট অব ফুড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (আইএফএসটি) এবং ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরি লিমিটেডে পরীক্ষা করানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, পরীক্ষায় ক্যালসিয়াম প্রোপায়োনেটসহ বিভিন্ন প্রিজারভেটিভ ও গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের মাত্রা সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার নির্ধারিত সীমার মধ্যে পাওয়া গেছে। বিএসটিআই ও ওয়াফেন রিসার্চ ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় তাদের পণ্যে পটাশিয়াম ব্রোমেটও শনাক্ত হয়নি বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পণ্যের সংরক্ষণকাল ও জীবাণুজনিত নিরাপত্তা যাচাই করতে বিসিএসআইআরের আইএফএসটিতে ৩০ দিনের মাইক্রোবায়োলজিক্যাল শেলফ লাইফ পরীক্ষা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, পরীক্ষার প্রতিটি পর্যায়ের ফলাফল গ্রহণযোগ্য ছিল এবং পরীক্ষিত সময়জুড়ে সালমোনেলা এসপিপি অনুপস্থিত পাওয়া গেছে।
ইস্ট বেকারের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক কর্মকর্তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বিবৃতিতে বলা হয়, ভোক্তার আস্থা ও নিরাপত্তা তাদের কাছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। ভবিষ্যতেও পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্য নিরাপত্তা এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার গুণগত মান আরও শক্তিশালী করার কাজ অব্যাহত থাকবে।
প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, উৎপাদন ও মান নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা এবং নির্ধারিত মানদণ্ড অনুসরণ করা হবে। একই সঙ্গে ভোক্তা, পরিবেশক, ডিলার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যাচাইযোগ্য তথ্যের ওপর আস্থা রাখার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ইস্ট জিবাই ইন্টারন্যাশনাল ফুড লিমিটেড।
তবে পরীক্ষার ফলাফলগুলো নির্দিষ্ট নমুনা ও পরীক্ষিত উপাদানের বিষয়ে প্রযোজ্য। তাই এসব ফলাফলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটির সব পণ্য বা সব ব্যাচের নিরাপত্তা সম্পর্কে সামগ্রিক সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার পরিধি ও কর্তৃপক্ষের শর্ত বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
The post ইষ্ট বেকার পন্য বাজারজাতকরণে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই appeared first on ভোরের চেতনা.
