লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জে মেসার্স সোনালী ব্রিকস নামে একটি ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদন বাতিল করা হয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর বন্ধ থাকার পর নতুন করে মিল্লাত ব্রিকস (প্রস্তাবিত) নামে ইটভাটা চালুর জন্য কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। এ ভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে পরিবেশ অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ছাড়পত্র বাতিলসহ নির্দেশ অমান্যে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়ে ইটভাটা মালিক মঞ্জুর হোসেনকে দেওয়া পত্রটিও প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সোনালী ব্রিকসের পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল করা হয়েছে। তারা মিল্লাত ব্রিকস নামে নতুন করে ছাড়পত্রের নবায়নের জন্য আবেদন করেছিল। ওই ভাটার এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে মমতাজ মেমেরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও গোবট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ইটভাটার ১ কিলোমিটারের মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকায় ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৩ (সংশোধিত ২০১৯) এর ধারা ৮(৩)(ঙ) অনুযায়ী ইটভাটাটির অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
এতে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রাম অঞ্চল কার্যালয়ের ছাড়পত বিষয়ক কমিটির ৩১৮তম সভায় ৬নং সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোনালী ব্রিকসের (প্রস্তাবিত মিল্লাত) ছাড়পত্র ও নবায়নের আবেদনটি বাতিল করা হয়েছে। ইটভাটাটি নিষিদ্ধ ঘোষিত এলাকার অবস্থিত হওয়ায় এবং পরিবেশগত ছাড়পত্র বাতিল হওয়ায় ইটভাটার সকল কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ অমান্য করলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইন ও পরিবেশ আদালত আইন অনুযায়ী স্পেশাল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়েরসহ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান জানান, নিষিদ্ধ এলাকায় ইটভাটা বন্ধ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। এছাড়া নির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া যায়। বিষয়টি নিয়ে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। মন্ত্রী এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসককে বলেছিলেন। পরে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়। ইটভাটার এক কিলোমিটারের মধ্যে দুটি বিদ্যালয় থাকায় ছাড়পত্র ও নবায়ন আবেদন বাতিল করা হয়েছে। ভাটা মালিক মঞ্জুর হোসেনকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে একাধিকবার ইটভাটা মালিক মঞ্জুর হোসেনের মোবাইলফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এতে তার বক্তব্য জানা যায়নি।
