আবুধাবি টেস্টে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় সংগ্রহের পথে এগোচ্ছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে দ্রুত ৬ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেছেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। সপ্তম উইকেটে এই দুজনের জুটিতে একশ রান এসেছে ১৩৫ বলে। সর্বশেষ পাওয়া আপডেট অনুযায়ী, ৯৮ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান। প্রথম ইনিংসের ১০৬ রানের লিডসহ বাংলাদেশের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ৪৪৩ রানে।
লিটন ও মিরাজের জুটি গড়ে ওঠার পেছনে ভাগ্যের সহায়তাও রয়েছে। একাধিকবার ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গেছেন দুজনই। লিটন দুবার ক্যাচ দিয়ে রক্ষা পান। এর মধ্যে একবার আফগানিস্তানের সব রিভিউ শেষ হয়ে যাওয়ায় কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনের পরও তাঁকে ফেরানোর সুযোগ পায়নি প্রতিপক্ষ।
ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে শাফল করে খেলার চেষ্টা করেন লিটন। ঠিকভাবে খেলতে না পারলেও বল তাঁর ব্যাটের কানায় লেগে জমা পড়ে উইকেটকিপারের গ্লাভসে। আম্পায়ার আবেদনে সাড়া দেননি। আফগানিস্তানের অধিনায়ক রেহমত শাহ তখন আর রিভিউ নিতে পারেননি। পরে রিপ্লেতে আল্ট্রা এজে স্পষ্ট হয়, বল ব্যাটে লেগেছিল। ওই সময় লিটন ৬৭ রানে ছিলেন। পরের বলেই ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্লিপ দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি পান তিনি।
এর আগে কাইস আহমাদের বলে দুবার জীবন পান লিটন। একবার স্লিপে ক্যাচ দিয়েও বেঁচে যান, আরেকবার ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি আফগান লেগ স্পিনার। জীবন পাওয়ার পর আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অর্ধশতক পূর্ণ করেন তিনি। ৬১ বলে পঞ্চাশে পৌঁছানোর পথে তাঁর ব্যাট থেকে আসে একাধিক বাউন্ডারি।
মিরাজও একবার স্লিপে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে যান। ইয়ামিন আহমাদজাইয়ের বলে ব্যাটের কানায় লেগে ক্যাচটি উইকেটের পেছনে যায়। স্লিপে থাকা ফিল্ডার ডাইভ দিয়ে কোনোমতে আঙুল ছোঁয়াতে পারলেও ক্যাচটি নিতে পারেননি। উইকেটকিপার ইকরাম আলিখিলও ধরার চেষ্টা করেননি। ফলে চার রান পেয়ে যান মিরাজ।
এরপরও একটি রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি আফগানিস্তান। ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিতে গিয়ে মিরাজ ক্রিজ থেকে দূরে থাকলেও মিড-অন থেকে করা থ্রো বোলারের প্রান্তের স্টাম্পে লাগেনি। ফলে টিকে যায় বাংলাদেশের সপ্তম উইকেট জুটি।
এর আগে প্রথম ইনিংসেও প্রতিরোধ গড়েছিলেন লিটন ও মিরাজ। দ্বিতীয় ইনিংসেও তাঁদের ব্যাটে বড় লিডের আশা দেখছে বাংলাদেশ। আফগানিস্তান প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড পেয়েছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে নাজমুল হোসেন শান্ত ৮২ এবং মুশফিকুর রহিম ৮১ রান করেন। তাঁদের বিদায়ের পর দ্রুত দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। পরে লিটন ও মিরাজের জুটি সেই চাপ সামাল দেয়। আগের দিন শেষ বেলায় শান্ত ও হাসান মাহমুদের উইকেট হারানোর পর দিন শুরুতে সতর্কতার সঙ্গে খেললেও পরে রান তোলার গতি বাড়ান লিটন।
এদিকে এক টেস্টে দুটি পঞ্চাশছোঁয়া ইনিংস ও অন্তত পাঁচটি ডিসমিসালের কীর্তি গড়েছেন লিটন দাস। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করেন তিনি। প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করার পাশাপাশি উইকেটকিপিংয়ে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিং করেন লিটন। টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি গড়া দশম উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তিনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস: ৩৪৬
আফগানিস্তান প্রথম ইনিংস: ২৪০
বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংস: ৯৮ ওভারে ৬ উইকেটে ৩৩৭ রান
লিটন দাস: ৮১* মেহেদী হাসান মিরাজ: ৩৮*
বাংলাদেশের লিড: ৪৪৩ রান
