সৌদি আরবে হুথি ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত নাসরুল্লাহ ও আশিক
পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মাদরাসাশিক্ষক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর। তাঁর মৃত্যুর খবরে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের লাশ দেশে ফেরার।
কুমিল্লা অফিস
পবিত্র ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব গিয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের মাদরাসাশিক্ষক মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদর। তাঁর মৃত্যুর খবরে উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনেরা অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের লাশ দেশে ফেরার।
নিহত নাসরুল্লাহ বদর বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) ৪৫ সদস্যের একটি কাফেলার সঙ্গে ওমরা পালনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করেন তিনি। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতির সময় হামলার ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় বলে স্বজনেরা জানিয়েছেন।
নাসরুল্লাহ স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরে ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর দুই ছেলে জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২) এবং মেয়ে নাবিলা (৫)। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী-সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন স্বজনেরা।
নিহতের ভগ্নিপতি মাওলানা মো. নাসির উদ্দিন বলেন, নাসরুল্লাহর মৃত্যুতে পুরো পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসার চালানোর দায়িত্ব তাঁর ওপরই ছিল। এখন পরিবারটি কীভাবে চলবে, তা ভেবে পাচ্ছেন না তাঁরা। ঘটনার পর থেকে লাশ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছেন স্বজনেরা। দ্রুত লাশ দেশে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে তিনি মৃত্যুর খবর পেয়েছেন। লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।
যে যাত্রায় পবিত্র ওমরা পালনের স্বপ্ন ছিল, সেই যাত্রায় প্রিয়জনকে হারিয়ে শোকাহত নাসরুল্লাহর পরিবার। এখন তাঁদের অপেক্ষাÑকবে দেশে ফিরবে তাঁর লাশ কবে শেষবারের মতো দেখতে পাবেন প্রিয় মানুষটিকে।
বগুড়া অফিস
এক মাসের ছুটি কাটিয়ে স্ত্রীসহ সন্তানদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সৌদি আরবে ফিরেছিলেন শাহেদ আহমেদ আশিক। স্ত্রী-সন্তানের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেবার স্বপ্ন বুকে নিয়ে প্রিজনদের ছেড়ে আবারও কঠিন প্রবাস জীবনে ছুটে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন নিমিষেই শেষ হয়ে গেল। পরিবারের সাথে আর সাক্ষাতের সুযোগ হলোনা আশিকের। সৌদি আরবের রিয়াদে কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন আশিক। তার মৃত্যুর খবরে বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়ার বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী, বাবাকে হারিয়ে দুই শিশুসন্তান এবং সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন স্বজনেরা।
নিহত শাহেদ আহমেদ আশিক বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলার মাদলা পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। গত ১০ অক্টোবর সকাল ৯টায় সৌদি আরবের উদ্দেশে বিমানে ওঠেন তিনি। এর আগের দিন ৯ অক্টোবর বগুড়া শাজাহানপুর বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে যাত্রার প্রস্তুতি নেন। প্রায় এক মাস বাড়িতে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরছিলেন তিনি। অথচ সেই ফেরা আর হলো না।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যান আশিক। তার বাবা রফিকুল ইসলাম প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে প্রবাসী হিসেবে চাকরি করছেন। তিন মাস আগে তার মা-ও ওমরাহ হজ পালনের জন্য সৌদি আরবে গিয়েছিলেন।
গ্রামের বাড়িতে আশিকের স্ত্রী ও ১১ বছর এবং ৬ বছর বয়সী দুই ছেলে রয়েছে। স্বামীকে হারিয়ে স্ত্রী যেমন দিশেহারা, তেমনি বাবার মৃত্যুর খবর দুই শিশুর জীবনে ডেকে এনেছে অপূরণীয় শূন্যতা। এক মাসের ছুটি কাটিয়ে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা আশিকের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু খবর সৌদি আরব থেকেও অনলাইনের মাধ্যমে বাবা মা’র কাছে পৌঁছান বাংলাদেশের স্বজনেরা।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাইফুর রহমান বলেন, ‘শাহেদকে দেশে আনার বিষয়ে সরকার কাজ শুরু করেছে। আমি নিজে উদ্যোগী হয়েও খোঁজ খবর রাখছি। সরকারি খরচেই লাশ দেশে আসবে। আমাদের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা লাগলে তা করার জন্য প্রস্তুত আছি।’
