নোয়াখালীর পৃথক স্থানে দুই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর মধ্যে সদর উপজেলায় চোর সন্দেহে মো. কবির (৪০) নামের এক ব্যক্তিকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলায় মো. সজীব (২৪) নামের এক সৌদি প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। দুটি ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নাই ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামগঞ্জ বাজারসংলগ্ন গাইন বাড়ি এলাকায় কবিরকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, আগের দিন সোনাপুর ফিলিং স্টেশন থেকে দেড় লাখ টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কবিরকে শনাক্ত করার পর তাকে নোয়ান্নাই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ ডালের বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নিয়াজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দেবীপুর এলাকায় নেয়া হয়। সেখানে তাকে মারধর করা হলে তার মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, কবিরের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় চুরির একাধিক অভিযোগ রয়েছে। চুরির সন্দেহে তাকে আটক করে মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে, সোনাইমুড়ী উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আবিরপাড়া এলাকায় সামছুল হক মেম্বারের পুরোনো বাড়ির সামনের মাঠ থেকে সজীবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত মো. মালেক ও সেলিনা আক্তারের ছেলে।
পরিবারের সদস্যদের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হন সজীব। বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয়রা তাকে মাঠে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সজীবের চাচাতো ভাই রিয়াদ অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা সজীবকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়েছিল। এ ঘটনার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে তার সন্দেহ।
সোনাইমুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন জানান, হাসপাতালে প্রবাসী সজীবের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
দুটি মৃত্যুর ঘটনায় পৃথকভাবে তদন্ত করছে পুলিশ। তবে সজীবের মৃত্যুর কারণ এবং তার চাচাতো ভাইয়ের করা অভিযোগের সত্যতা তদন্তের আগে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
