জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে জাল নথির মাধ্যমে দলিল নিবন্ধন এবং সরকারের প্রায় ১৩ লাখ টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগে কর পরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলামসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুদকের জনসংযোগ দপ্তর এ তথ্য জানায়। তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য, স্মারক ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কর অঞ্চল-৯-এর উত্তরা কার্যালয়ের কর পরিদর্শক আবু হাসান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ও তার স্ত্রী লাকী রেজওয়ানা। এ ছাড়া কালিয়াকৈর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. রাসেল মিয়া ও মো. নাছির উদ্দিন রয়েছেন।
অন্য অভিযুক্তরা হলেন কালিয়াকৈরের সাবেক সাব-রেজিস্ট্রার মো. ইব্রাহীম মৃধা, খোন্দকার গোলাম কবির, মো. সাইফুল ইসলাম, মোছা. আনোয়ারা বেগম ও মো. মোজাহারুল ইসলাম। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত।
দুদক জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই অভিযোগে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ১০ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা করে দুদক। সংস্থাটির গাজীপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহার আলী সরদার বাদী হয়ে মামলা দুটি করেন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজশে জমির প্রকৃত শ্রেণি পরিবর্তন করে জাল আরএস বা নামজারি খতিয়ান এবং খাজনার রসিদ তৈরি ও ব্যবহার করেন। ‘চালা/নাল/বাগান/বাড়ি’ শ্রেণির জমিকে ‘সাইল/বাইদ’ হিসেবে দেখিয়ে এসব নথির ভিত্তিতে সর্বনিম্ন মৌজা রেটে ১৪টি দলিল নিবন্ধন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে কর পরিদর্শক খাইরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী লাকী রেজওয়ানাসহ অন্য জমির মালিকেরা সাব-রেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকদের সহায়তায় একই পদ্ধতিতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে দলিল নিবন্ধন করেন। এতে সরকারের ১২ লাখ ৮৮ হাজার ৮৭২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দুদক।
